ভালোবাসা
যখন তুমি বিমুখ থাকো
আমার বাড়ে টান
বিড়ি টানা কিশোর ছিলাম
আজও নেশার প্রাণ।
পথ : প্রেমের, প্রেমহীনতার
আর এ আমি আজ যেখানে থাকি,
অনেকবার এসেছো তুমি
আগে, যখন আমি থাকতাম না;
আসবে আরও বহুবার,
হয়তো-বা থাকবেও
বাসা বেঁধে ফ্ল্যাটে
আজকের আমার মতন
যখন আমি থাকবো নাকো;
কিন্তু আজ একটিবারও আসো নাকো
আমার নিঃশ্বাস ছুঁয়ে চলে যাও
মালিবাগে,
গণি রোডে
অথবা বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে;
আমার কাছে আসার পথটি
যেন কেউ উলটিয়ে ফেলে দিয়েছে
হাতির ঝিলের পানিতে
যাকে টেনে তোলা
স্থগিত রেখেছো তুমি
হাতে নিয়ে… ভালোবাসার
টাইসুন ক্রেন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা।
বৃষ্টি
বৃষ্টি পড়ে জলের ওপর
বৃষ্টি পড়ে চরে
নদী খুশি ঘরের ভেতর
বৃষ্টি পড়ে ঘরে।
বৃষ্টি টানে কচুর পাতায়
বৃষ্টি টানে প্রেমে
বৃষ্টি টানে মাটির গতর
বৃষ্টি টানে ঘেমে।
ঘরে ধ্বনি বাইরেও ধ্বনি
ধ্বনি সৃষ্টিমুখে
শিহর শিহর প্রতিধ্বনি
আহা কী যে সুখে!
আর কিছুক্ষণ হলে পরে
বৃষ্টি যাবে থেমে
মন চায়, শরীরও; তাই
মত্ত বৃষ্টি প্রেমে।
উৎপ্রেক্ষা
আসলে কে তাকে সত্যিসত্যি ভালোবাসে,
রুমি নাকি আমি…
ভবনে ও ভাবনায়
কবিতায় ও নীরবতায়
এই দ্বন্দ্ব জমে পউষের ক্ষীর–
এই দ্বন্দ্ব জমে–
সোনার বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা
আর আসমান হয়ে আছে
চুম্বনে হাততালি দেওয়া দিন
কেননা একটি কঠিন কারণে সে এখন
সেন্সর বোর্ড বসিয়ে রেখেছে অধরে।
আর বন্ধুগণ?
তারা এখন পথ ভুলে যাওয়া বুদ্ধিজীবী।
তাকে সাথে নিয়ে রুমি আজ সিংহাসন–
তাকে সাথে নিয়ে রুমি আজ উৎসব;
আর দরবার থেকে দূরে
আমি শাখ-ই নবাৎ এর কবি…
একদিন সুমি দেখেছিল আধখানি
তার বসন্ত সন্ধ্যা অধর
কিন্তু তার দায়বদ্ধতা প্রেমের কাছে
আর যাত্রাপালা দেখা রাখালের মতো
রাতজাগা টিকটিকিরা বোঝে না
সহবাসের রাতে কেন সে
উৎপ্রেক্ষা হয়ে ওঠে
মুনমুনের উথালপাথাল শরীরে।
শূন্য অথবা সিংহাসন
হয়তো তুমি আসবে নাকো
ডাকবো না আর আমিও
চলার পথে খেয়াল এলে
খেয়াল করেই থামিও।
মাথার ওপর মেঘের চুমু
কোমর চুমে ফুলের ঘ্রাণ
তারা বলে কোথায় তোমার
মধ্যমণি মেহেরজান?
ফেসবুকে আর চোখ রাখি না
সেলফোনে নাই তোমার নাম
তবুও তোমার আগের চুমু
ঠোঁট তো বটেই– চায় এ প্রাণ।
টুঙ্গি ছুঁয়ে হাউজ বিল্ডিং
আলাওল রোড তুরাগ ধার
কাশফুল আর কেমনে দেবো
দিয়াবাড়ি যে ছারখার !
ছাদের ওপর টবের মেলা
একটুখানি চাহারবাগ
তুমি হলে আনারকলি
সেলিম হতে আমার সাধ।
রানিমহল নাইবা থাকুক
নাইবা গেলে অন্যখান
বিপিআইয়ে কাটবে রাতি
চাঁদনি রাতে জোছনা স্নান।
আমলারা আজ এলোমেলো
কবিকে দেয় নির্বাসন
তুমি এলে উলটে গড়ি
নিরঙ্কুশ এক সিংহাসন।
ওদের মতো কেন হবো?
পদপদবি? সম্মানও?
পরিণামে ডুববে তারা
আজ মানো আর কাল মানো।
ভুলে গেছো কে ছিল সেই
হাফিজ কিংবা ফেরদৌসী?
তারাই রাজা, বাকিরা সব
ইতিহাসের চাপরাশি।
কবি পরিচিতি
আমিনুল ইসলাম (জন্ম: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৬৩)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বাংলাদেশ। তিনি একাধারে কবি, ছড়িাকার, সাহিত্য সমালোচক ও গবেষক। এযাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থ : ২৯টি।
(ক) কবিতাগ্রন্থ :
তন্ত্র থেকে দূরে(২০০২); মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম(২০০৪); শেষ হেমন্তের জোছনা(২০০৮); কুয়াশার বর্ণমালা(২০০৯); পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি(২০১০); স্বপ্নের হালখাতা(২০১১); প্রেমসমগ্র(২০১১);
জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার(২০১২); শরতের ট্রেন শ্রাবণের লাগেজ(২০১৩);
কবিতাসমগ্র(২০১৩); জোছনার রাত বেদনার বেহালা :(২০১৪) ; তোমার ভালোবাসা আমার সেভিংস অ্যাকউন্ট ( ২০১৫) ; প্রণয়ী নদীর কাছে (২০১৬), ভালোবাসার
ভূগোলে(২০১৭); নির্বাচিত কবিতা ( ২০১৭); অভিবাসী ভালোবাসা ( ২০১৮) , জলের
অক্ষরে লেখা প্রেমপত্র (২০১৯) ( বাছাই কবিতা ( ২০১৯), প্রেমিকার জন্য সার-সংক্ষেপ ( ২০২০), হিজলের সার্কিট; রমনার কোকিল( ২০২২); মহানন্দা থেকে
মধুমতী(২০২৩); মতিহারী ভালোবাাস ( ২০২৪); পরদেশী মেঘ (২০২৪)।
(খ) ছড়ার বই : ১.দাদুর বাড়ি-(২০০৮); ২. ফাগুন এলো শহরে-(২০১২) ৩. রেলের গাড়ি
লিচুর দেশ (২০১৫)।
(গ) প্রবন্ধগ্রন্থ: বিশ্বায়ন বাংলা কবিতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ-(২০১০)।
(ঘ) গবেষণাগ্রন্থ– নজরুলসংগীত : বাণীর বৈভব (২০২১) ।
সম্মাননা/পুরস্কার
(১) রাজশাহী সাহিত্য পরিষদ সাংগঠনিক সম্মাননা ২০০৪;
(২) বগুড়া লেখক চক্র স্বীকৃতি পুরস্কার ২০১০ ;
(৩) শিশুকবি রকি সাহিত্য পুরস্কার ২০১১ ;
(৪) নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ সম্মাননা ২০১৩
৫। গাঙচিল সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫
(৬) এবং মানুষ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ ;
(৭) দাগ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮
(৮) কবিকুঞ্জ পদক ২০২১;
(৯) পূর্বপশ্চিম সাহিত্য পুরস্কার ২০২১;
(১০) আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার ২০২১;
(১১) বিন্দু বিসর্গ পদক ২০২৩;
(১২) কাহ্নপা সাহিত্য পদক ২০২৪।








