বি-আত্মেয় দেহ : একটি তুলসি গাছের আত্মকথা
জানি, আমাকে বুঝতে না পারার অক্ষমতা তোমাকে পোড়ায়;
বুঝি, আমার সাধারণ থেকে অতি সাধারণ হওয়ার প্রবণতা তোমাকে ভাবায়;
রক্তে আমার অণু থেকে ভেঙেচুরে আরো ছোট হওয়ার ভীষণ ঝোঁক।
জানি, পরমাণুতে তোমার ভয়;
ভয় কর তার সামর্থ্য ও শক্তিমত্তাকে–
যে সব কিছু পরিবর্তন করে দিতে পারে এক নিমেষে!
তুমি কি অবাক হওনা দেখে ‘ওরা গর্ব করে দাবি করে ওদের পারমানবিক শক্তি আছে’ এই বলে!
অহেতুক তটস্থ থাক দুষ্ট বন্ধুটির “আহা!মেয়েতো নয় যেন এ্যাটম বোম” মন্তব্যের ভয়ে।
বেচারা জীবনকে ত্যানা ত্যানা করে ফেলছ ভালোবেসে;
একান্ত ব্যক্তিগত আয়নায় তার কুৎসিত ছবি দেখে দেখে।
বরং এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেল পাড়ার লোককে জানিয়ে: “আমি ভবিষ্যতের আস্ত বলদা একটা গাভি”–
যে ডিম পারবে তোমার ইচ্ছে মতো;
ভেড়ার মতো শান্ত, আছে ঘোড়ার মতো শক্তি গায়ে।
বাতাসের লিফলেট বিলিয়ে দিও এই লিখে–
কনের চামড়া তুলে বসাচ্ছে দামি গণ্ডারের চামড়া।
কথা দিচ্ছি,
তোমার বিশাল আকাশের চাঁদ-তারা খসাবো না অজান্তেও!
কেবল খুদ কুঁড়া পেলে ভুলে যাব সব!
বেমালুম ভুলে যাব বাপের নামও!
শুধু যেন-তেন একটা আবদার–
এই বি-আত্নেয় দেহকে একটা তুলসি গাছ হতে দিও।
গর্ভফুলের প্রাণ বিস্তরণ ধারণা
নারী, পৃথিবীর মতো এতোটাই স্থিতিশীল
যাকে রোধ করলে পাবেই মাটির কঙ্কাল!
গর্ভাশয়ে নক্ষত্রের আলো চাষাবাদ করে
হিংস্র সিংহী নিরাপত্তা বলয়ের ভরে।
পর্বতের দৃঢ়তা ও কুসুমের কোমলতা
হাড়-মাংসের দেহে সাজে নতুন পূর্ণতা।
রক্তের অদ্ভূত নৃত্যে দোলে স্বপ্নের ভুবন
ভঙ্গুর মনে বাড়ন্ত লতানো ভয় গোপন।
ভ্রুণ নাড়িতে পুতে রাখে ইন্দ্রজালিক মায়া
গর্ভ এক নিরাপত্তা-ঘেরা আজব দুনিয়া,
ভোরের বিস্ময় নিয়ে এক প্রাণ জাগানিয়া
তেজস্বী সূর্যের প্রসব যন্ত্রণায় মরিয়া।
সমুদ্রের ব-দ্বীপে আছড়ে পড়ে গর্ভফুল
ধরণীতে বাড়ে নাড়ি ছেঁড়া বিস্ময় পলল।
যুগে যুগে নারী তুমি বৃক্ষের মতো সবুজ–
যার বীজপত্র গর্ভাশয় সৃষ্টিতে অবুজ।
ঐশ্বরিক বরপ্রাপ্ত যে অমিত সম্ভাবনা
বয়ে চলে ফুলের প্রাণ বিস্তরণ ধারণা।
সোনাজঙ্গা
শীতে পরিযায়ী বরফ ডানায় ক্লান্তি এঁকে,
এখানে উষ্ণ ঝিলের মোলায়েম কম্বলে
শান্তির বেহেস্ত খুঁজেছিলো সোনাজঙ্গা।
খলবলে নরসুন্দার মায়াবী জল,
পাখির পালকে উপচে উঠা কোমল পালঙ্ক।
বুকে এঁকে ক্ষুরচিহ্ন, আকাশে পঙ্খিরাজ উড়াল,
অবহেলায় বিষাদ ফুটা হেম পদ্ম।
দেখো নক্ষত্রের নিষ্পলক দৃষ্টি মেলে–
দু’টি আত্নার বিচ্যুতি ; অভিশাপ না নিয়তি!
অথৈ দূরত্বের স্বচ্ছ পর্দা তুলে মহাকালের দৃষ্টি বিনিময়;
নক্ষত্রের বার্তা তুমি জ্যোস্নালোকিত চাঁদ
যার টানে ফুলে উঠা ঝিল আমি টগবগে মহাসমুদ্র।
কবি পরিচিতি :
ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে পড়াশোনা শেষ করে অধ্যাপনা করছেন একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে।
নিয়মিত লিখছেন ছোট ও বড় কাগজে। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : গুপ্তকথার শব্দচাবি।













