রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩, ১ জিলকদ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রথম শিক্ষার্থী য়াপাও ম্রো।

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ম্রো জনগোষ্ঠীর কোনো তরুণী হিসেবে ভর্তি হয়েছেন য়াপাও ম্রো।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম একটি গ্রাম নিশিপাড়া। এটি রুমা উপজেলার ৩ নম্বর রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের অন্তর্গত।

বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রাম চারদিকে পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা। এখানকার মানুষের প্রতিদিন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে। বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সুপেয় পানি বা হাসপাতাল—কিছুই সহজলভ্য নয়। তবে এই অভাবের মধ্যেও তাদের জীবনের অবলম্বন প্রকৃতিই।

প্রকৃতির এ রূঢ় বাস্তবতার মধ্যে বেড়ে উঠা য়াপাও ম্রোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া শুধুমাত্র তার একার সাফল্য নয়, বরং এটি পুরো ম্রো জাতিগোষ্ঠির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

এ ঘটনা ম্রোদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও সম্মানের। অবশ্য এই কৃতিত্ব অর্জনে অদম্য এই তরুণীকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে।

বান্দরবানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যায় ম্রোদের অবস্থান দ্বিতীয়। কিন্তু পাহাড়ের অন্য নৃগোষ্ঠীর তুলনায় তারা অনগ্রসর। জুমচাষনির্ভর এই নৃগোষ্ঠীর বেশির ভাগই লিখতে-পড়তে পারে না।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের নিশিপাড়া কঠিন বাস্তবতায় ঘেরা। পাহাড়ি এই গ্রামে আজও বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, হাসপাতাল কিংবা স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা নেই। জুমচাষ নির্ভর জীবিকা এবং সীমিত শিক্ষার সুযোগের মধ্যে বেড়ে ওঠা ম্রো জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই এখনও লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

ম্রো ভাষার গবেষক ইয়াংঙান ম্রো বলেন, এতদিন ম্রো সমাজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কোনো তরুণীর উদাহরণ ছিল না। য়াপাও সেই অচলায়তন ভেঙেছেন। তাঁর মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো জাতির আত্মবিশ্বাস জাগানোর ঘটনা।

চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় য়াপাওয়ের বাবা পারাও ম্রো একজন দরিদ্র জুমচাষি। নিজের জীবনে শিক্ষা না পেলেও সন্তানদের জন্য আলোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কষ্টের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বারবার মেয়েকে বলতেন, ‘আমরা তো চোখ থাকতে অন্ধ ছিলাম, তুই আমাদের আলো হবি।’

দারিদ্র্য, অনগ্রসরতা, কষ্ট ও সীমাহীন প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তাঁর এই অর্জন পাহাড়ের প্রতিটি ম্রো কিশোরীর জন্য হবে নতুন স্বপ্নের অনুপ্রেরণা।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রথম শিক্ষার্থী য়াপাও ম্রো।
১২ বছর পর সালমানকে ‘হ্যাঁ’ বললেন প্রীতি!
‘তামিম শতভাগ দিয়ে বোর্ডকে গর্বিত করতে পারবে’
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে গ্রেপ্তার ৬৯
এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন
প্রেমে মজেছেন সিডনি সুইনি!
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু
হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু
নীরবতা ভেঙে কঠিন যে হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
আবারো হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি
‘বিগত দুই সরকারের সময় ঠিকমতো হামের টিকা না দেওয়া ক্ষমাহীন অপরাধ’
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু
সৌদি আরব পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলন
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
‘শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে’
‘এই দেশ আমাদের, অন্যকেউ গড়ে দিয়ে যাবেনা’
আজ হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ইসরাইল-লেবাননের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০ 
কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.