লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় যাত্রী ও ক্রু সদস্যসহ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর আর কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সাতেনা এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের একটি ‘বিচক্রাফট ১৯০০’ মডেলের বিমান মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, কলম্বিয়ার সংসদ সদস্য দিয়োজেনেস কুইন্তেরো আমায়া এবং আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের প্রার্থী কার্লোস সালসেদো। এই দুর্ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিমানটি স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী ওকানিয়া শহরে অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১১ মিনিট আগে বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এয়ারলাইন সূত্র জানায়, এনএসই ৮৮৪৯ নম্বর ফ্লাইটটি কুকুতা শহর থেকে ওকানিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। ফ্লাইটটিতে ১৩ জন যাত্রী এবং দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থলটি পাহাড়ি ও দুর্গম হওয়ায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। তবে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সেখানে উদ্ধারকাজ চলছে। নর্তে দে সান্তান্দের প্রদেশের গভর্নর উইলিয়াম ভিলামিজার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
যে এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তার কিছু অংশ ইএলএন গেরিলা গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন বলে জানা গেছে। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের জন্য একটি হটলাইন চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্য দিয়োজেনেস কুইন্তেরোর ফেসবুক পেজেও তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তাকে জনগণের পাশে থাকা একজন মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।








