দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় থালাপতি। প্রথমবারের মতো বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েই তার দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম বিপুল জনসমর্থন অর্জন করে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। কয়েক দিনের টানটান রাজনৈতিক আলোচনা, জোটসঙ্গীদের সমর্থন এবং নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রায় নিশ্চিত হয়েছে বিজয়ের।
রোববার (১০ মে) সকাল ১০টায় তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার কথা রয়েছে বিজয়ের। চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী ১৩ মে’র মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে তাকে।
গত ৪ মে প্রকাশিত নির্বাচনের ফলে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয় পায়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য আরও সমর্থনের প্রয়োজন পড়ে।
শুরুতে কংগ্রেসের পাঁচজন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দেন। এরপর ডিএমকে জোটের শরিক সিপিআই ও সিপিআই(এম) তাদের চারজন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করে। এতে বিজয়পন্থি শিবিরের আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ১১৬।
এসময় ডিএমকে ও এআইএডিএমকে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছে—এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে শনিবার (০৯ মে) সন্ধ্যায় পরিস্থিতি বদলে যায়। ডিএমকের দীর্ঘদিনের মিত্র ভিসিকে দল বিজয়কে নিঃশর্ত সমর্থনের ঘোষণা দেয়। দলটির দুই বিধায়কের সমর্থনের পর ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগও বিজয়ের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানায়।
সব মিলিয়ে বিজয়পন্থি জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ১২০। যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট। প্রয়োজনীয় সমর্থনের চিঠি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিজয় এবং সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানান। পরে রাজ্যপাল তার দাবি গ্রহণ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এটি একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘ ছয় দশকের দ্বিদলীয় আধিপত্য ভেঙে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিজয়ের দল। এখন দেখার বিষয়, জনপ্রিয়তার এ জোয়ার প্রশাসনিক দক্ষতায় কতটা রূপ নিতে পারে।








