আগামী ২২ কার্যদিবসের মধ্যে সরকার যদি জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদির খুনিদের বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইনকিলাব মঞ্চ সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেবে বলে জানিয়েছেন প্লাটফর্মটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভে তিনি এই কথা বলেন।
জাবের জানান, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য শনিবার তারা সব রাজনৈতিক দলের কাছে যাবেন।
তিনি বলেন, “সরকার ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা (গত ২৫ ডিসেম্বর) ৩০ কার্যদিবস সময় দিয়েছিলাম; আর বাকি আছে ২২ দিন।
আমরা ওই কার্যদিবস ধরেই আগাইতেছি। যেই সরকার ওসমান হাদির খুনি এবং এই খুনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের গ্রেপ্তার বা তাদের সন্ধান পর্যন্ত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেই সরকারের তো ক্ষমতায় থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।”
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে, শুধু খুনি নয়, এই খুনের পেছনে যারা রয়েছে, প্রত্যেককে আইডেন্টিফাই করে এরপরে চার্জশিট দাখিল করতে হবে। যদি মনে করেন যে, যারা এই খুনের পেছনে রয়েছে, তাদের ব্যাপারে মুখ খুললে আপনারা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না, আপনাদের ক্ষমতায় থাকবার দরকার নাই।”
তিনি বলেন, “ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ইনসাফের আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ফলে অনেকেই মনে করেছে, হাদিকে যদি এখনই হত্যা করা না যায় তাহলে পরবর্তী সময় তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না; সীমান্তে লাশ ফেলা যাবে না। দিল্লির তাঁবেদারি করা যাবে না। সবকিছু একই সূত্রে গেঁথে তারপর হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।
আজ দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এতে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পরে বেলা বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আজকের কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধি হন ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এর পর থেকে প্রায় দিনই শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।








