মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১ পৌষ ১৪৩২, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৭, শীতকাল

‘কারাগারে ইমরান খানের জীবিত থাকার কোনো প্রমাণ নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এবার পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ছেলে কাসিম খান তার বাবার জেলজীবন নিয়ে কড়া অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, তার বাবা টানা ৮৪৫ দিন ধরে কারাগারে আছেন। গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে একা একটি ‘ডেথ সেলে’ রাখা হয়েছে। কোনো পরিবার সদস্য তাকে দেখতে পারছেন না। এমনকি আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জেল কর্তৃপক্ষ কাউকে সাক্ষাৎ করতে দিচ্ছে না।

কাসিম খানের দাবি, তার বাবার বোনদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, তিনি ও তার ভাইদের সঙ্গে ‘কোনো যোগাযোগ’ নেই এবং ‘জীবিত থাকারও কোনো প্রমাণ’ নেই। তিনি লেখেন, ‘এই পুরো অন্ধকার পরিস্থিতি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে তার অবস্থা গোপন করার চেষ্টা।’ তিনি সতর্ক করেন, সরকার এবং ‘তার হ্যান্ডলারদের’ জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ‘সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাকে’ যে ‘অমানবিক বিচ্ছিন্নতায়’ রাখা হয়েছে, তা বন্ধ করতে হবে এবং অবিলম্বে তার জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে হবে। ইমরান খানের বোন নুরিন নিয়াজি দাবি করেন, পাকিস্তানে ভয়ংকর সেন্সরশিপ চলছে। তিনি এএনআই-কে বলেন, সাংবাদিক ও মিডিয়া মালিকদের আটক করা হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে সেন্সরশিপ এতটাই কঠোর যে মিডিয়ার মানুষদের ধরে নিয়ে যায়… তাদের এত চাপ দেওয়া হয় যে ছাড়া পাওয়ার পর তারা কিছু বলতে পারেন না।’

তিনি আরও বলেন, পরিচিত কিছু সাংবাদিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তাদের পাসপোর্ট ও সম্পদও আটকে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ‘হিটলারের সময়ের কথা পড়েছি… পাকিস্তানে এখন একই ঘটনা ঘটছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, শাহবাজ শরিফের সরকার ‘একেবারেই জনপ্রিয় নয়।’ তিনি বলেন, নির্বাচন হয়েছে ‘কারচুপির মাধ্যমে,’ আর সরকার দুর্বল ও দমনমূলক। তিনি মনে করেন, পশ্চিমা দেশগুলো পাকিস্তানের ‘প্রতারণা’ জানে, কিন্তু তারা পদক্ষেপ নেবে না।

তীব্র প্রতিবাদ করছে পিটিআই নেতৃত্বও। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি টানা অষ্টমবার ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে ব্যর্থ হন। গত ২৭ নভেম্বর তিনি আদিয়ালা জেলের কাছে ধর্ণা দিয়েছিলেন। পুলিশ তাকে ও পিটিআই কর্মীদের জেল ফটকে পৌঁছাতে দেয়নি। আফ্রিদি বলেন, আদালতের আদেশ মানা হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘২.৫ কোটি মানুষের’ প্রতিনিধিকে কেন আটকানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, খানের বোন, আইনজীবী ও চিকিৎসকদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে পিটিআই নেতারা, যেমন জুলফি বুখারি ও মেহর বানো কুরেশি, সরকারের কাছে খানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ বিবৃতি চান। তারা অবিলম্বে পরিবারকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সাম্প্রতিক গুজব অনলাইনে আরও ছড়ায় যখন কয়েকটি বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট দাবি করে যে ইমরান খান নাকি কারাগারে মারা গেছেন। তবে এসব দাবি কোনো নির্ভরযোগ্য সংস্থা নিশ্চিত করেনি। গুজব আরও জোর পায় যখন খানের তিন বোন – নুরিন নিয়াজি, আলীমা খান ও ড. উজমা খান – অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে জেলের বাইরে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু পুলিশ ‘নৃশংস ও পরিকল্পিত’ হামলা চালায়।

তারা বলেন, স্ট্রিটলাইট নিভিয়ে তাদের টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। নুরিন নিয়াজি বলেন, তাকে চুল ধরে টেনে ফেলা হয় এবং তিনি আহত হন। তারা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে খানের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। আদিয়ালা জেল পাঞ্জাব সরকারের অধীনে, যার নেতৃত্বে আছেন মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ। তিনি বলেন, খানের সাক্ষাৎ-সংক্রান্ত বিষয়ে তার ‘কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’ অন্যদিকে ইমরান খান আগেই দাবি করেছিলেন, জেলের সব বিষয় একজন সেনা কর্নেল নিয়ন্ত্রণ করছেন।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

নব্বইয়ের ভিনটেজে মেসির সামনে কারিনা ম্যাজিক!
গোলাম আযম-নিজামী সূর্যসন্তান নয়, স্বাধীনতাবিরোধী: মির্জা আব্বাস
হাদির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হার্টবিট স্বাভাবিক হয়ে এসেছে: সিঙ্গাপুর থেকে হাদির ভাই
বিবিসির বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি ডলারের মানহানি মামলা ট্রাম্পের
ধানমন্ডি ৩২-এ টাঙানো হলো হাদির ছবি
অতীত রাজনীতি পায়ের নিচে ফেলে সামনে এগোতে চায় জামায়াত
শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বিজয় উৎসব’
রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা-আইজিপির শ্রদ্ধা
স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে: ফখরুল
সাভার স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা

ফটোগ্যালারী

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.