দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রশ্ন রেখে বললেন, বাংলাদেশ কি নতুন এক শিল্পবিপ্লবের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে?
গত বৃহস্পতিবার (১ মে) দেওয়া ঐ পোস্টে শফিকুল জানান, তিনি আলোচনায় বসেছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরীর সঙ্গে। আহসান খান সম্প্রতি তাইওয়ান সফর শেষে দেশে ফিরে এসেছেন এবং জানিয়েছেন, প্রাণ-আরএফএল এখন একাধিক চীনা কম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনায় আছে। বিশ্ববাণিজ্যের চেহারা বদলাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতির কারণে উৎপাদন এখন পূর্ব এশিয়া থেকে সরছে দক্ষিণ এশিয়ার দিকে। সেই জায়গায় বাংলাদেশও উঠে আসার সুযোগ পেয়েছে।
প্রাণ-আরএফএল এখন আর নতুন জমিতে ফ্যাক্টরি করছে না। তারা পুরনো ও অব্যবহৃত সরকারি-বেসরকারি কারখানা নিয়ে সেগুলো রূপান্তর করছে আধুনিক রফতানিমুখী প্লান্টে। রংপুরের পুরনো তামাক কারখানা এখন জুতা তৈরির প্লান্ট, রাজশাহীর পুরনো পাটকল এখন রফতানি ইউনিটে রূপান্তরিত।
আহসান খান বলেন, ‘বিশ্ববাজারে পরিবর্তনের যে সুযোগ এসেছে, সেটা অনেক বড়। দরকার শুধু একটা অনুকূল পরিবেশ, যেখানে উৎপাদন আর রফতানি ঠিকভাবে চালানো যাবে।’
শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘এখনকার নিউইয়র্ক টাইমস, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস বা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দেখলেই বোঝা যায়, ব্রেটন উডস বা ডব্লিউটিওর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পুরনো বাণিজ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এই ব্যবস্থায় চীন, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর সবাই রফতানি দিয়ে ধনী হয়েছে। অথচ দক্ষিণ এশিয়া পিছিয়ে থেকেছে। এখন নতুন সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশ সেই সুযোগ নিতে পারবে কি না, এটাই বড় প্রশ্ন।’
রাজনীতি এখানে বড় ভূমিকা রাখবে। ইতিবাচক দিক হলো- এখন দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ব্যবসাবান্ধব মানসিকতা দেখাচ্ছে। তবে শফিকুল আলম মনে করেন, বড় চ্যালেঞ্জটা হবে পণ্য পরিবহন আর সরবরাহব্যবস্থায়। যদি আমরা দ্রুত রফতানি করতে না পারি, তাহলে এই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে বড় পরিকল্পনা
সরকার এই বিষয়টা গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ছয় গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এতে বছরে ৭.৮৬ মিলিয়ন কনটেইনার সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। এই প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানের কোনো কম্পানিকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও আছে। এটা সফল হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যজগতে পরিষ্কার বার্তা যাবে, বাংলাদেশ এখন প্রস্তুত, বিনিয়োগের জন্য খোলা।
সামনের ৬ থেকে ৭ মাসই টার্নিং পয়েন্ট
শফিকুল আলম লিখেছেন, এই ৬ থেকে ৭ মাসই নির্ধারণ করে দেবে, বাংলাদেশ সত্যি কি পারবে রফতানিনির্ভর শিল্পশক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে? আমাদের সামনে বড় একটা সুযোগ এসেছে। এখন দেখার বিষয়, আমরা কি সেটা কাজে লাগাতে পারব?








