মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৪ জিলকদ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

আফগানিস্তানে ফের বিমান হামলা পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাম্প্রতিক আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ‘ক্যাম্প ও আস্তানা’ লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

এই হামলায় আফগানিস্তানের অন্তত দুটি সীমান্ত প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা।

সূত্রগুলো জানায়, পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি নানগারহার প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনী ‘গোয়েন্দাভিত্তিক ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান’ চালিয়ে সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানা ধ্বংস করেছে। এসব স্থাপনা নিষিদ্ধ ঘোষিত পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলে আইএস-এর একটি সহযোগী শাখাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামাবাদসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনাকারীদের ‘সুনির্দিষ্ট প্রমাণ’ রয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কাবুলকে আহবান জানালেও তালেবান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

পাকিস্তানের এ বিমান হামলা চালানো হয় এমন এক সময়, যখন রোববারই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। এর পরদিন সোমবার বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ১১ জন সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক।

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তাড়লাই কালান এলাকায় অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন মুসল্লি নিহত এবং প্রায় ১৭০ জন আহত হন। এ হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই হামলার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও আদর্শিক প্রস্তুতি আফগানিস্তানেই সম্পন্ন হয়। তথ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২০ সালে কাতারের রাজধানী দোহাতে যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী আফগান ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করার যে প্রতিশ্রুতি তালেবান দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ প্রয়োগের আহবান জানায় ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যার বেশিরভাগের জন্য টিটিপি ও নিষিদ্ধ বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করছে দেশটি। যদিও তালেবান সরকার বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

গত অক্টোবর থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সেনা, বেসামরিক মানুষ ও সন্দেহভাজন যোদ্ধাসহ বহু প্রাণহানি ঘটে। কাতারের মধ্যস্থতায় ১৯ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

এমন পরিস্থিতি আর কেউ ফেস করেননি: মোনামি
নকলায় শতাধিক বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার, আটক ৩
নকলায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন
সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-ফারজানা রুপার জামিন
যে কারণে হারাতে পারেন ড্রাইভিং লাইসেন্স
‘সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি পুলিশের পদও চিরস্থায়ী নয়’
রিয়ালকে হারিয়ে লা লিগা চ্যাম্পিয়ন বার্সা
গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট
মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্প
ঐতিহাসিক কুরআন দিবস আজ
নবম পে-স্কেলে বাড়ছে তিনটি বিশেষ ভাতা
আবার সৌদি গেলে আরও ওয়েস্টার্ন ড্রেস কিনবো: মিম
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচিতদের পূর্ব কার্যকলাপ যাচাইয়ে হচ্ছে ‘পুলিশি তদন্ত’
পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী
হান্টা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক
পুলিশ বাহিনীর যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে
শিক্ষকদের এপ্রিলের বেতন নিয়ে সুখবর দিল মাউশি
হামে মৃত্যু হওয়া শিশুদের পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রিট
৩৮৬ রানে অলআউট পাকিস্তান
কোনো ফ্যাসিবাদি শক্তি যেন পুলিশকে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.