হজযাত্রীদের জন্য আগামী ২০২৬ সালে হজ পালনের জন্য সরকার ৩টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে হজ প্যাকেজ ঘোষণা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। হজযাত্রী প্রেরণের দিক থেকেও আমাদের অবস্থান চতুর্থ। গত বছর দেশ থেকে ৮৭ হাজার ১০০ জন হজ পালন করেছেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কথা বিবেচনা করে আমরা ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণার এই সময়ে উপনীত হয়েছি।
হজ একটি দ্বি-রাষ্ট্রিক কার্যক্রম উল্লেখ করে খালিদ হোসেন বলেন, নীতি নির্ধারণী বিষয়ে সৌদি সরকারের ভূমিকাই প্রধান। ২০২৬ সালের হজের জন্য সৌদি প্রান্তের চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়নি। তাই বিগত বছরের হিসাবের ভিত্তিতে সম্ভাব্য খরচ ধরে প্যাকেজ প্রণয়ন করা হয়েছে। সৌদি সরকার কর্তৃক কোনো খরচ বাড়লে বা কমলে প্যাকেজ মূল্যও সেই অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে। বাড়তি টাকা হজযাত্রীদের দিতে হবে, কমলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের হজযাত্রীদেরকে ৮ কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার ১৮৩ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি প্যাকেজের ব্যয় সম্পর্কে বলেন, সৌদি আরব পর্বের ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে মক্কা-মদিনায় বাড়ি/হোটেল ভাড়া, পরিবহন, জমজম পানি, মিনা-আরাফায় সার্ভিস চার্জ, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য বীমা, ইলেক্ট্রনিক্স ফি, গ্রাউন্ড সার্ভিস ফি, মিনার তাঁবু ভাড়া, লাগেজ পরিবহন এবং নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ‘দমে শোকর’ খরচ।
বাংলাদেশ পর্বের ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে বিমান ভাড়া, হজযাত্রীদের কল্যাণ তহবিল, প্রশিক্ষণ ফি, হজ গাইড ও অন্যান্য সার্ভিস চার্জ। এই ২ পর্বের ব্যয় যোগ করেই প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের হজে বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান ধর্ম উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গত বছর বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা। এবার তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে হজযাত্রী প্রতি বিমান ভাড়া ১২ হাজার ৯৯০ টাকা কমলো। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ভাড়া আরো কমানোর চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া, বিমান ভাড়া থেকে বাংলাদেশ পর্বের ভ্যাট ও ট্যাক্স হজযাত্রীদের জন্য বহির্ভূত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের হজে কিছু নতুন ও বাড়তি খরচের কথাও উল্লেখ করেন তিনি, সৌদি সরকার স্বাস্থ্য বীমার পরিমাণ বাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪,২৭০ টাকা। মিনা ও আরাফায় তাঁবু ভাড়া ৪.২ শতাংশ বেড়েছে। প্রথমবারের মতো ‘দমে শোকর’ বাবদ ৭২০ সৌদি রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩,৬৫২ টাকা) প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার বেড়েছে। গত বছর যেখানে ১ রিয়াল ছিল ৩২.৫০ টাকা, এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২.৮৫ টাকায়।
প্যাকেজ ৩টির বিবরণ
(১) হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ)- খরচ ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা
(২) হজ প্যাকেজ-২- খরচ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা
(৩) হজ প্যাকেজ-৩- খরচ ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা
উল্লেখ্য, প্যাকেজভেদে সেবা ও সুযোগ-সুবিধার তারতম্য হবে।
তিনি আরো বলেন, ৭০ বা ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ হজে যেতে চাইলে ৫০ বছরের নিচে একজনকে সঙ্গে নিতে হবে, সংক্রামক রোগ আক্রান্ত কেউ হজ পালন করতে যেতে পারবেন না।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে-২০২৬ পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ জুলাই শুরু হওয়া হজ নিবন্ধন শেষ হবে ১২ অক্টোবর।








