প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও মুকিম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়, যদি সে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়।
নেসাবের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সোনা বা রুপার ভিত্তিতে। সোনার ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি এবং রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি। তবে বাস্তবে হিসাব করা হয় সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ অনুযায়ী।
যদি কারও কাছে আলাদাভাবে সোনা বা রুপা নেসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু সোনা-রুপা মিলিয়ে বা অন্য সম্পদের সঙ্গে যোগ হয়ে সেই পরিমাণে পৌঁছে যায়, তাহলেও তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে।
কুরবানির নেসাব হিসাব করার সময় শুধু নগদ অর্থ বা সোনা-রুপা নয়, বরং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, বাড়ি, অলঙ্কার, ব্যবসায়িক পণ্য, অতিরিক্ত আসবাবপত্র ও অন্যান্য সম্পদও অন্তর্ভুক্ত হবে। এসব সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়।
অনেকে মনে করেন, যেভাবে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সম্পদের শর্ত থাকে, কুরবানির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। এটি সঠিক নয়। কুরবানির ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ নেসাব পরিমাণ হলেই কুরবানি ওয়াজিব হয়, যদিও সে সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ না-ও হতে পারে।
আরেকটি ভুল ধারণা হলো, শুধুমাত্র ১০ জিলহজ তারিখে নেসাব থাকলেই কুরবানি ওয়াজিব হবে। বাস্তবে ১০ থেকে ১২ জিলহজ—এই তিন দিনের যেকোনো সময় কেউ নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে।
অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে নতুন করে সম্পদ অর্জন হলেও কুরবানি করা আবশ্যক হয়ে যায়।








