সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩, ২ জিলকদ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

একজন শাবানার আত্মকাহিনী

সেলাই মেশিনের কথা বললেই যেই মুখটা এক ঝটকায় মনে পড়ে যায়, তিনি শাবানা। বাংলাদেশি সিনেমার সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে পরিচিত, আর সবচেয়ে ভালোবাসার নাম।

হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন— সেই শাবানাই, যেই মেয়েটা পর্দায় সেলাই মেশিন চালিয়ে চালিয়ে হঠাৎ একদিন হয়ে যেত বড়লোক, গাড়ি-বাড়ি-ফ্যাক্টরির মালিক, সবাই যার পায়ের নিচে। এই চরিত্রটাই ছিল শাবানার ট্রেডমার্ক বলা যায়। এমন কোনো ঘর নাই, যেখানে শাবানার এই সিনেমাগুলা কেউ দেখে নাই বা মনে রাখে নাই।

শাবানা অভিনয় শুরু করেছিল ১৯৬৭ সালে, তখন তার বয়স খুবই কম। প্রথম দিকে তার নাম ছিল রত্না, পরে নাম বদলে হয় শাবানা। তখনকার দিনে যে কয়জন মেয়ে সাহস করে সিনেমায় কাজ করতে এসেছে, তাদের মধ্যে শাবানা ছিল একেবারে অন্যরকম। তার চোখে-মুখে ছিল এক ধরণের দৃঢ়তা, ভেতরে একরকম আগুন, যেটা ক্যামেরার সামনেই শুধু না, দর্শকের মনেও আগুন লাগিয়ে দিত।

তার সিনেমার সবচেয়ে মজার আর রিলেটেবল দিক ছিল এই সেলাই মেশিনের গল্পটা। শাবানা মানেই একটা দুঃখী, গরিব, স্বামীহারা বা পিতৃহারা মেয়ে, দুইটা বাচ্চা, হাতে একটা পুরনো সেলাই মেশিন—এই দিয়েই জীবন চালায়। কষ্ট করে, চোখের জল ফেলেও থামে না, কাজ করে যায়। তারপর ধীরে ধীরে ভাগ্যের চাকা ঘোরে, কেউ একজন সহানুভূতি দেখায়, কেউ পাশে দাঁড়ায়, আর সেই মেয়েটাই একদিন বড়লোক হয়। এই সিনেমাগুলা দেখে মানুষ কেঁদেছে, মুগ্ধ হয়েছে আর বারবার বলেছে, এই শাবানাই আমাদের দেশের মেয়ে।

এইরকম কিছু হিট সিনেমার নাম বললে বলতে হয়— ভাত দে, এই সিনেমা দেখে না কাঁদা যায় না, শাবানার চোখের জল মানেই দর্শকের চোখে জল। অবুঝ মন, যেখানে প্রেম আর আত্মত্যাগের মিশেলে শাবানা একেবারে মনে গেঁথে গেছে। সত্য মিথ্যা, এখানে তার স্ট্রং আর কনফিডেন্ট এক নারী চরিত্র সবাইকে মুগ্ধ করেছে। ছুটির ঘণ্টা, এই সিনেমা শিক্ষার্থীদের জীবনের কথা বলে, শাবানার চরিত্র একেবারে হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সখী তুমি কার, প্রেম-ভালোবাসা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আর এক মেয়ের আত্মসম্মান নিয়ে গড়ে ওঠা দারুণ সিনেমা। ওরা এগারো জন, এখানে শাবানা মুক্তিযুদ্ধের এক শক্তিশালী চরিত্রে ছিল, জাতীয় সিনেমা হিসেবেই মনে রাখার মতো। স্বামী কেন আসামি, এই সিনেমা শুধু নামেই না, কন্টেন্টেও ছিল সেই কমেডি আর বাস্তবতার অসাধারণ মিশেল।

শাবানা শুধু অভিনয় জানত না, সে বুঝত একটা চরিত্র কিভাবে মানুষের মনে ছাপ ফেলে। তার চোখ, তার হাঁটার ভঙ্গি, তার সংলাপ বলার স্টাইল সবকিছুতেই ছিল এক ধরণের বাস্তবতা। মনে হতো, এই মেয়েটা আমাদের পাশের বাসার খালা বা বোন হতে পারে। ব্যক্তি শাবানা নিয়েও বলার মতো অনেক কিছু আছে। সে খুবই মার্জিত, ভদ্র, কেয়ারিং একটা মানুষ ছিল। গসিপে যেত না, কাজ করত মন দিয়ে। ইন্ডাস্ট্রির সবাই তাকে সম্মান করত, কেউ আজও তার নামে খারাপ কিছু বলে না। এমনকি এখনকার প্রজন্ম যারা তাকে হয়তো সিনেমায় দেখেনি, তারাও তার নাম শুনে বলে ,শাবানা আপা? উনি তো কিংবদন্তি!

এখনো সে যেকোনো পুরস্কার বা সংবর্ধনায় গেলে সবাই উঠে দাঁড়ায়, সালাম দেয়, সম্মান জানায়। একটা মানুষ ক্যারিয়ার থেকে সরে যাওয়ার পরেও যদি এত সম্মান পায়, তাহলে বোঝাই যায়—সে কী পরিমাণ ভালোবাসা কুড়িয়েছিল জীবনে। সব মিলিয়ে শাবানা মানেই এক অন্যরকম গল্প। পর্দার ভেতরেও সে ছিল রাণী, আর পর্দার বাইরেও। তার সেই সেলাই মেশিন চালানো, কষ্ট সহ্য করা, আর একদিন বিজয়ী হয়ে ওঠার গল্প এইটাই আসলে বাংলাদেশি নারীর প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল। আর সেই নারীর নামই শাবানা।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

বর্তমান মজুত গ্যাসে ১২ বছর চাহিদা মেটানো সম্ভব
দূরপাল্লার বাসে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব
হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু
এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ
এসএসসি পরীক্ষায় সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রথম শিক্ষার্থী য়াপাও ম্রো।
১২ বছর পর সালমানকে ‘হ্যাঁ’ বললেন প্রীতি!
‘তামিম শতভাগ দিয়ে বোর্ডকে গর্বিত করতে পারবে’
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে গ্রেপ্তার ৬৯
এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন
প্রেমে মজেছেন সিডনি সুইনি!
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু
হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু
নীরবতা ভেঙে কঠিন যে হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
আবারো হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি
‘বিগত দুই সরকারের সময় ঠিকমতো হামের টিকা না দেওয়া ক্ষমাহীন অপরাধ’
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু
সৌদি আরব পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলন

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.