অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, সবেচেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। তিনি ছাড়াও অনেক সম্পদের অধিকারী পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। তবে এক বছরে সম্পদ কমেছে পরিবেশ বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সম্পদের এই বিবরণী প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকার মোট সম্পদ-পরিসম্পদ ছিল, যা এক বছর আগে ছিল ১৪ কোটি এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে সম্পদ বেড়েছে এক কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকার।
প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ারসহ নানা কারণে সম্পদ বেড়েছে। স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের মোট পরিসম্পদ আছে এক কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকার, যা আগের অর্থবছর ছিল দুই কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকা।
আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন করদাতার মালিকানাধীন স্থাবর-অস্থাবর, আর্থিক ও মূলধনী সম্পত্তির সমষ্টি হলো পরিসম্পদ। অধ্যাপক ইউনূসের সম্পদের বিবরণীর তথ্যমতে, তার আছে ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪০১ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ১৩ কোটি ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৩ টাকা। আর ২১ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকার অর্থবর্হিভূত সম্পদ রয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ২০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকার। বিদেশে আছে ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকার সম্পদ, যা এক বছর আগে ছিল ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪০ টাকার।
সম্পদ বিবরণীর তথ্যমতে, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের এক বছরে এক কোটি ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৮১ টাকার সম্পদ বেড়েছে, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত যা ছিল ১৫ কোটি ৯ লাখ ১৩ হাজার ১০২ টাকার। গত ৩ জুন পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৩ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে সম্পদ বেড়েছে এক কোটি ১৩ লাখ ৮২ হাজার টাকার।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট সম্পদ ছিল ৯১ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৮৯৫ টাকার, যা চব্বিশের একই সময় পর্যন্ত ছিল ৯১ কোটি ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪২ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ৫৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩ টাকার সম্পদ বেড়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের তুলনায় ২০২৫ সালের একই সময় পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টাকার সম্পদ কমেছে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের। আর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের বিদেশে দায় আছে ১২ লাখ মার্কিন ডলার।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিবেশ উপদেষ্টার ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আর্থিক সম্পদ ছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার ৯৪৮ টাকা, নন-ফিন্যান্সিয়াল সম্পদ ছিল ৩১ লাখ ৪ হাজার ১০৭ টাকার। দেশের বাইরে সম্পদের হিসাব শূন্য উল্লেখ করা আছে। এতে করে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫ টাকা।
আর ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল ৮১ লাখ ৬৮ হাজার ৮১৭ টাকা। অর্থবর্হিভূত সম্পদের পরিমাণ অপরিবর্তিত ছিল। দেশের বাইরে সম্পদের হিসাব শূন্য উল্লেখ করা আছে। এতে মোট সম্পদ দাঁড়ায় ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার ৯২৪ টাকা। এছাড়া ২০২৪ সালে পরিবেশ উপদেষ্টার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় ছিল ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫২ টাকা, সেটা কমে হয়েছে ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮৭ টাকা।
এছাড়া ড. খলিলুর রহমানের আর্থিক সম্পদ ২০২৪ সালে ছিল ২০ লাখ টাকা, সেটি ২০২৫ সালে ২২ লাখ টাকা হয়েছে। এছাড়া তার অর্থবর্হিভূত সম্পদের হিসাব দেওয়া হয়নি। বিদেশে তার প্রায় ২২ লাখ টাকার সম্পদ আছে, সেটি মার্কিন মূল্যে আগে যা ছিল, তাই আছে। একইসঙ্গে ২০২৪ সালে ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় ছিল, সেটি ২০২৫ সালে ১২ লাখ ডলারে নেমেছে।
অন্যদিকে নিজ সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক বিবরণ তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মঙ্গলবার পোস্টে তিনি জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে নিজ সম্পদ ও সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেছিলেন। সেসময় তিনি বলেছিলেন, ঢাকার শাহীনবাগে একটি এবং দনিয়ায় বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া আরেকটি ফ্ল্যাট তার মালিকানায় আছে। পাশাপাশি তিনি ও তার স্ত্রী দুজনেই ময়মনসিংহে একটি করে অ্যাপার্টমেন্টের মালিক।
রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকে একটি হিসাব থাকার তথ্য দিয়ে শফিকুল লেখেন, যেখানে জমা ছিল ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এই অর্থের একটি বড় অংশ ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি থেকে পাওয়া গ্র্যাচুইটি। সেখানে তিনি ২০০৫ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে। এছাড়া মাগুরায় নিজ গ্রামে তার ৪০ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে।
শেষ কর্মদিবসের কথা উল্লেখ করে তিনি পোস্টে লেখেন, আমার ব্যাংকে জমা অর্থে সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। আমার এখনও একটি মাত্র ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যেখানে বর্তমানে আছে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৯ লাখ টাকা বেড়েছে।








