শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩, ৭ জিলকদ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ১১৬ জনের মৃত্যু, অনাহারে ৩৫ দিন বয়সী এক শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের মানবিক সহায়তা বন্ধ ও অবরোধের মধ্যেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অনাহারে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৩৫ দিন বয়সী ওই শিশুটির গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে মৃত্যু হয়।

এদিকে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটিতে ইসরায়েলি লাগাতার হামলায় আরও ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) সহায়তা কেন্দ্রের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে।

আজ রোববার (২০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলের মানবিক সহায়তা বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বিতর্কিত ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে ক্ষুধার্ত মানুষের ওপর গুলি চালানোর মধ্যেই গাজায় আবারও একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে মাত্র ৩৫ দিন বয়সী এক নবজাতক অনাহারে মারা গেছে।

শনিবার গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবু সালমিয়া। তিনি বলেন, “অপুষ্টি বা অপর্যাপ্ত খাদ্যগ্রহণে মৃতদের মধ্যে এই নবজাতকও রয়েছে। এদিন অন্তত দুজন ব্যক্তি অনাহারে মারা যান আমাদের হাসপাতালে।”

এই ঘটনাগুলো ঘটেছে এমন এক সময় যখন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলো খাবারের অভাবে কাতর হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে উপচে পড়ছে। অন্তত ১৭ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে।”

গাজার দক্ষিণে খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও রাফাহের উত্তর-পশ্চিমে দুটি আলাদা স্থানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা। তারা এই প্রাণহানির পেছনে ইসরায়েলি হামলাকে দায়ী করেছেন।

মোহাম্মদ আল-খালিদি নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী আল জাজিরাকে বলেন, “তারা ইচ্ছা করে গুলি চালিয়েছে। একদিকে জিপ আর অন্যদিকে ট্যাংক আসতে দেখে আমরা পালাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা গুলি শুরু করে।”

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আল-বারবারি তার চাচাতো ভাইকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই কেন্দ্রগুলো আসলে মৃত্যু ফাঁদ। মানুষ শুধু একটু খাবারের আশায় আসে, কিন্তু ফিরে যায় লাশ হয়ে।”

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের মহাসচিব জগন চাপাগাইন বলেন, “গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। কাউকে যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক মুঠো খাবার সংগ্রহ করতে না হয়।”

গাজার বাজারগুলোতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেই, আর খাদ্যদ্রব্যের দাম এতটাই বেড়ে গেছে যে ২৩ লাখ মানুষের পক্ষে দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান ইয়ান এগেল্যান্ড জানান, “গত ১৪২ দিনে আমরা একটি ট্রাকও গাজায় প্রবেশ করাতে পারিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে নেতা বলছেন সহায়তা প্রবাহ স্বাভাবিক হচ্ছে, তা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না।”

এছাড়া জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, তারা “পুরো গাজার জন্য যথেষ্ট খাদ্য মজুত রেখেছে মিসরের সীমান্তে”, কিন্তু ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে সেগুলো প্রবেশ করতে পারছে না। সংস্থাটি বলছে, “সীমান্ত খুলুন, অবরোধ তুলে নিন এবং আমাদের কাজ করতে দিন।”

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

মাস সেরার পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরেই নেওয়ার পরিকল্পনা
মৃত্যুর পর ভাইরাল অভিনেত্রীর পোস্ট!
‘ইনশাআল্লাহ’ বলা সেই হলিউড অভিনেত্রীকে ভক্তের কুরআন উপহার
ভাঙন থামছে না ভোগাইয়ের, আতঙ্কে বেনীরগোপবাসী
জামায়াত আমিরের মন্তব্যে মির্জা ফখরুলের ক্ষোভ
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত
কলেজ ছাত্র রিজয়ান রশীদের বানানো গো-কার্ট চালালেন প্রধানমন্ত্রী
কান কথা বলে ও তেল মারা লোকদের কাছে দূরে থাকবেন: কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বিএনপি সরকার: প্রধানমন্ত্রী
রুশ বিপ্লবের স্মরণে ঢাকাস্থ রুশ হাউসের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
‘সব ধরনের আইন যাচাই-বাছাই করে সংসদে তোলা হবে’
ফের হরমুজ প্রণালীতে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র
‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই আলোচনায় বসবে’
রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর আজ
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু
১০০০ মাদরাসায় চালু হচ্ছে কারিগরি ট্রেড কোর্স: শিক্ষামন্ত্রী
রাজধানীতে বাসচাপায় নিহত ২
ইরানে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাল বাংলাদেশ

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.