হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একাধিক কৌশলগত বিকল্প নিয়ে পেন্টাগনে পর্যালোচনা চলছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কয়েকটি সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা যাচাই করছে। এর মধ্যে একটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগর ঘিরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার বিষয়টি রয়েছে। এসব হামলার মূল লক্ষ্য হবে ইরানের সেই সামরিক সম্পদ ধ্বংস করা, যেগুলোর মাধ্যমে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।
সূত্রগুলোর বরাতে জানানো হয়, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের দ্রুতগতির আক্রমণ নৌযান এবং সমুদ্রে মাইন পেতে ব্যবহৃত জাহাজগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। এই নৌযানগুলো আগের দফার ব্যাপক হামলা থেকে অক্ষত ছিল এবং এগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশলগত শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানানো হয়, যাতে ইরান স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তৈরির জন্য আরও সময় পায়।
তবে একই সঙ্গে সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কেউ মাইন পেতে চেষ্টা করলে মার্কিন নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেন্টাগনের আরেকটি পরিকল্পনায় ইরানের এমন সামরিক নেতাদের লক্ষ্য করে হামলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বাধা সৃষ্টিকারী হিসেবে মনে করছে।
এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ও উৎক্ষেপণ ঘাঁটিসহ অন্যান্য সামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণেই দেশটি কার্যকরভাবে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সাড়া দিতে পারছে না। তার ভাষায়, ইরানের নেতৃত্বে বিভ্রান্তি রয়েছে এবং দেশটির ভেতরে কট্টরপন্থী ও মধ্যপন্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে।








