নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন।
সংবিধান অনুযায়ী এসব আসনে তফশিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিএনপির ভাগে ৩৫ থেকে ৩৬টি আসন যেতে পারে।
দলীয় পর্যায়ে আলোচনা অনুযায়ী, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার চিন্তা করছে দলের হাইকমান্ড। বিশেষ করে ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীদের একটি বড় অংশ আলোচনায় রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে এগিয়ে আছেন যারা :
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও নির্বাচিত সিনেট সদস্য শিরিন সুলতানা, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সেলিনা সুলতানা নিশিতা, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী অ্যাডভোকেট শওকত আরা উর্মি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর সাবেক নেত্রী সাবরিনা বিনতে আহমেদ, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত সাবেক নেত্রী রোকেয়া চৌধুরী বেবি।
দলীয় সূত্র জানায়, গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং হামলা-মামলার শিকার হওয়া তরুণ প্রজন্মের নেত্রীদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত কিংবা পরাজিত হওয়া প্রার্থীদের অনেকেই সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। তারা ঢাকায় অবস্থান করে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকে তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি আশা করেন, ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে দল।
অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ও তিনি দল ছাড়েননি। দুর্দিনের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের প্রত্যাশা করেন তিনি।
তানজিন চৌধুরী লিলি বলেন, ছাত্রদল থেকে মূল ধারার রাজনীতিতে এসে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। তার বিশ্বাস, দল অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নেবে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়। ত্যাগ, সাংগঠনিক অবদান, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সক্ষমতা সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।








