শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৯ শাওয়াল ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০২৫ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কযুদ্ধ নতুন এক পর্যায়ে ঢুকেছে, যা বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের কঠোর পাল্টা শুল্কনীতির একটি অংশকে অবৈধ বলার পরও ট্রাম্প পিছু হটেননি। আদালতের রায়ের পর তিনি নতুন আইনি পথ খুঁজে বিশ্বব্যাপী প্রায় সব আমদানির ওপর ঢালাও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে বিশ্ববাণিজ্যে আবারও অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শুল্ক ও বাণিজ্য কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে। ট্রাম্পের আগের ঘোষণার পর বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ১৯ শতাংশ শুল্কের একটি বিশেষ সমঝোতা বা কাঠামো আলোচনায় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্তে আগের শুল্ক কাঠামোর আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় ওই ১৯ শতাংশ ব্যবস্থাপনাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এমন অবস্থায় ১৯ শতাংশ কাঠামো যদি কার্যত স্থগিত বা বাতিলের দিকে যায়, তাহলে বাংলাদেশ নতুন ঘোষিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের আওতায় পড়ে যেতে পারে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কের হার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বড় সমস্যা হলো স্থিতিশীলতার অভাব। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক ও বড় ব্র্যান্ডগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে অর্ডার প্ল্যান করে। কিন্তু যখন নীতিমালা দ্রুত বদলায়, তখন তারা বড় অর্ডার দিতে দ্বিধায় পড়ে, বিকল্প উৎস দেশের দিকে নজর দেয় এবং ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ চেইনে পরিবর্তন আনে। এর প্রভাব বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি খাতগুলোতে অর্ডার প্রবাহ, দাম দরকষাকষি এবং ডেলিভারি প্ল্যানিংয়ে চাপ তৈরি করতে পারে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতার পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনসহ বিকল্প আইনি কাঠামো ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের পথে যাচ্ছে বলে আলোচনা আছে। মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকেও ইঙ্গিত মিলেছে, আদালতের রায়ের পরও শুল্কনীতি কার্যকর রাখতে তারা অন্য আইনি পথ ধরছে। এই অবস্থান দেখাচ্ছে যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন আগের মতোই কঠোর অবস্থানে থাকতে চায়।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে একইসঙ্গে দুই দিকে কাজ করতে হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নীতিগত নিশ্চয়তা তৈরির জন্য কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার করতে হবে, অন্যদিকে মার্কিন বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজার ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর কাজও দ্রুত এগোতে হবে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে মান, উৎপাদন সক্ষমতা এবং সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করার সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়ছে।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

নীরবতা ভেঙে কঠিন যে হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
আবারো হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি
‘বিগত দুই সরকারের সময় ঠিকমতো হামের টিকা না দেওয়া ক্ষমাহীন অপরাধ’
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু
সৌদি আরব পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলন
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
‘শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে’
‘এই দেশ আমাদের, অন্যকেউ গড়ে দিয়ে যাবেনা’
আজ হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ইসরাইল-লেবাননের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব
১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার
বিদ্যুৎ উৎপাদনে কমিশনিং লাইসেন্স পেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
শীঘ্রই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়াচ্ছে
হামের চিকিৎসায় এবার ৮ সদস্যের মেডিকলে বোর্ড গঠন
হজ কাদের জন্য ফরজ?
এনটিআরসিএ’র শিক্ষক শূন্যপদ ৭৭ হাজার
নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের
শুক্রবার রাতে ঢাকা ছাড়বে প্রথম হজ ফ্লাইট

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.