এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নতুন এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী আইন ও সাংবাদিকতা পেশায় জড়ানো যাবে না বলে নির্দেশনা আছে। যা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার মধ্যে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান এক চিঠি জারি করে বেকায়দায় পড়েছেন।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) তিনি বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মসজিদের ইমামতি, দোকান পরিচালনাসহ ১১টি পেশায় যুক্ত হতে পারবেন না বলে চিঠি জারি করেন। যা উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠিয়েও দেন।
পরে অবশ্য এমন চিঠি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা আগের চিঠি প্রত্যাহার করে নেন। অন্যদিকে মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে এমন সিদ্ধান্তের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
চিঠির দেওয়ার বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রেফারেন্স দিয়ে শিক্ষকদের ১১টি পেশায় যুক্ত হওয়া যাবে না উল্লেখ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠির বিষয়টি আমরা নোটিশ আকারে স্কুল-কলেজগুলোতে পাঠিয়েছি। পরে যখন জানতে পেরেছি বিষয়টি ঠিক নয়, তখন চিঠিটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি। ফেসবুকে একজনের পোস্টে এই ১১ পেশার কথাগুলো ছিল। যেখানে মাউশির ডিজি স্যারের কথা উল্লেখ করা ছিল। পরে এটা ভুল তথ্য বুঝে চিঠি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল আরেফিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে আসলে বিষয়টি ঠিক না ভুল তা জানা নেই। এখন শুনলাম তিনি চিঠি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
নির্দেশনায় যা বলেছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা:
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর আলোকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ একটি সম্মানজনক ও পূর্ণকালীন রাষ্ট্রীয় আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত পেশায় নিযুক্ত। এমতাবস্থায় তাদের পেশাগত দায়িত্ব ও সময়ের পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষকতার পাশাপশি কোনো অতিরিক্ত লাভজনক পেশায় সম্পৃক্ত হওয়া নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।
নিষিদ্ধ ও সীমাবদ্ধ পেশাগুলো হলো- সাংবাদিকতা (বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত); আইন পেশা (যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আদালত উভয়ই একই সময়ে চলে); কোচিং সেন্টার পরিচালনা বা এতে শিক্ষকতা; প্রাইভেট/কেজি স্কুল পরিচালনা; শিক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা বা পাবলিকেশন্স বাণিজ্যে অংশগ্রহণ; হজ্ব এজেন্ট বা এর মার্কেটিং কার্যক্রম; বিয়ের কাজী বা ঘটকালী পেশা; টং দোকান বা ক্ষুদ্র ব্যবসা; ঠিকাদারি বা নির্মাণ ব্যবসা; মসজিদের পূর্ণকালীন ইমামত বা খতিবের দায়িত্ব পালন ( যা শিক্ষকতার সময়কে প্রভাবিত করে) এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিশেষ সহকারী/চাটুকার হিসেবে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষক যদি স্বেচ্ছাশ্রমে ধর্মীয় বা সামাজিক কাজে যুক্ত থাকেন তা অবশ্যই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে যাতে মূল পেশাগত দায়িত্বে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
এমন কোনো নির্দেশনা আছে কি-না জানতে চাইলে মাউশির মাধ্যমিক উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, এমপিও নীতিমালা যে বিষয় বলা হয়েছে (সাংবাদিকতা ও আইনজীবী) তার বাইরে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা নেই।














