রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। ইনফেকশনের (সংক্রমণ) শঙ্কায় তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সময়ের আলোকে বলেন, ম্যাডামের নিউমোনিয়া হয়েছে৷ উনি এখনো সেরে উঠেননি। বয়সের কারণে সময় লাগবে। কেবিনে ইনফেকশনের রিস্ক থাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে উনাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে। কেননা কেবিনে আত্মীয় স্বজনসহ দেখতে আসেন। এতে রিস্ক থেকে যায়। আর সিসিউতে এক্সট্রা কেয়ার নেওয়া হবে। সেখানে দুই-তিনদিন থাকার প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের প্যারামিটারগুলো মোটামুটি ভালো আছে। উনার রক্তের হিমোগ্লোবিন, প্রেশার, ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে।
এই চিকিৎসক জানান, মেডিকেল বোর্ড নিরবচ্ছিন্নভাবে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। যখন যেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন তখন তিনি এসে ফলোআপ করছেন। সার্বক্ষণিকভাবে ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন হাসপাতালে থাকছেন।
বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে প্রতিদিন আলোচনা করে নতুন করণীয় ঠিক করা হচ্ছে। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি ডা. জুবাইদা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জনস হপকিনস হসপিটালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ডের বৈঠকে অংশ নেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। তিনি মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
বুধবার ২৬ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, আমি নিয়মিত হাসপাতালে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের পরামর্শে ম্যাডামের জন্য গুলশানের বাসা থেকেই খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। ম্যাডামের সঙ্গে তার ছোটপুত্রবধূ সৈয়দা শামিলা রহমান সার্বক্ষণিক থাকছেন। এছাড়া গৃহ পরিচালিকা ফাতেমা ও স্টাফ রুপা আক্তার সঙ্গে আছেন।
প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থরাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। গত রোববার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শুক্রবার সারাদেশে বিশেষ দোয়া দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে আল্লাহর দরবারে দোয়া চাওয়া হয়েছে।









