ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দলটির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সন্ধ্যা ৭টা শহরে উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে।
আজ রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে গৌরীপুর পৌর শহরের পাটবাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, গৌরীপুর আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন। তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জেলা উত্তর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পাপ্পুর কার্যালয় ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ স্থানীয় চার ব্যক্তিকে আহত করে মনোনয়ন না পাওয়া আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরনের সমর্থকরা। এ ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী চারজনকে অস্ত্রসহ আটক করে।
এদিকে, পূর্বনির্ধারিত সময়ে রোববার বিকেলে দুই পক্ষই পৌর শহরের আলাদা স্থানে সভার আয়োজন করে। মনোনয়ন পাওয়া ইকবাল পক্ষ গৌরীপুর সরকারি কলেজের হোস্টেল মাঠে ও মনোনয়ন না পাওয়া হিরণ পক্ষ শহরের মধ্যবাজার ধান মহাল এলাকা সভার আয়োজন করে। এদিন বিকেল চারটা থেকে দুই সমাবেশেই নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষই নিজ নিজ স্থানে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে সংঘর্ষের ঘটনা শুরু হয়। একে অপরের ওপর হামলা, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
ইকবাল পক্ষের নেতা হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ জানান, শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে নারী সমাবেশে যাওয়ার পথে হিরণের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। এমনকি এম ইকবালের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।
হিরণ পক্ষের নেতা সুজিত কুমার দাস জানান, ইকবালের উপস্থিতিতে তার নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে মিছিল থেকেই সমাবেশস্থলে প্রবেশ করে মঞ্চে থাকা নারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে হিরণের স্ত্রী সাঈদা মাশরুরসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন। এ সময় মঞ্চ ভাঙচুর ছাড়াও নেতাকর্মীদের ৩০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ৮ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।














