রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩, ১ জিলকদ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

ফেনীতে বাঁধ ভেঙে ২৫ গ্রাম প্লাবিত

কলিকাল প্রতিনিধি

ছবি : সংগৃহীত

ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধে অন্তত ১১টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফুলগাজী, পরশুরাম ও সদর উপজেলার প্লাবিত গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের ১৩৩ জন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন।

জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও উজানের পানির ঢলে এসব নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পায়। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার ওপরে বইছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন, মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধের ছয়টি স্থানে ভাঙন হয়েছে। এর মধ্যে মুহুরী নদীর ফুলগাজী অংশে দুটি ও সিলোনিয়া নদীর পরশুরাম অংশে চারটি। তিনি জানান, ভাঙন রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

তবে উপজেলা প্রশাসনের হিসাবে, পরশুরাম ও ফুলগাজী মিলিয়ে মোট ১১টি স্থানে ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। পরশুরামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান জানান, তাঁর উপজেলার মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর সাতটি স্থানে ভাঙন হয়েছে।

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া ইসলাম বলেন, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধের চারটি স্থানে ভাঙন হয়েছে। বন্যাকবলিতদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে শুকনা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরশুরামের মধ্যম ধনীকুন্ডা, নোয়াপুর, শালধর, পশ্চিম অলকা, জঙ্গলঘোনা, গদানগর, উত্তর মনিপুর, মেলাঘরসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফুলগাজী উপজেলার পূর্ব রাঙ্গামাটিয়া, সাতকুচিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম অলকা, উত্তর ও মধ্যম ধনীকুন্ডা, মধ্যম মণিপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে।

ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইসমাইল হোসেন বলেন, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি সভা হয়েছে। ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ফুলগাজীতে ৯৯টি ও পরশুরামে ৩২টি।

ইসমাইল হোসেন আরও জানান, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ফুলগাজীতে ৩৬টি পরিবারের ৮৫ জন, পরশুরামে ৫টি পরিবারের ২০ জন এবং সদর উপজেলায় ৭টি পরিবারের ২৮ জন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলা সর্বোচ্চ ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ। আজ বুধবারসহ আগামী দুই দিনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন
প্রেমে মজেছেন সিডনি সুইনি!
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু
হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু
নীরবতা ভেঙে কঠিন যে হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
আবারো হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি
‘বিগত দুই সরকারের সময় ঠিকমতো হামের টিকা না দেওয়া ক্ষমাহীন অপরাধ’
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু
সৌদি আরব পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলন
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
‘শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে’
‘এই দেশ আমাদের, অন্যকেউ গড়ে দিয়ে যাবেনা’
আজ হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ইসরাইল-লেবাননের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব
১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার
বিদ্যুৎ উৎপাদনে কমিশনিং লাইসেন্স পেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
শীঘ্রই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়াচ্ছে
হামের চিকিৎসায় এবার ৮ সদস্যের মেডিকলে বোর্ড গঠন

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.