কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী এলাকায় নবনির্মিত একটি গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ছয়জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় এবং আটজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ‘এন আলম’ নামের নবনির্মিত পাম্পটিতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা সাতটার দিক থেকে পাম্পটি থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। আমরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং সামনের কয়েকটি স্থাপনাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের আশপাশে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গ্যাস ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হচ্ছে। কক্সবাজার শহরের অন্যতম প্রবেশমুখ কলাতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ছড়িয়ে পড়া এলপি গ্যাসের কারণে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি গ্যাস লিকেজ বন্ধের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করছে। দেড় ঘণ্টার চেষ্টাতেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি বলে তিনি জানান।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হচ্ছে এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।








