টাঙ্গুয়ার হাওর সৌন্দর্যে অনন্য এক জলাভূমি। পর্যটকদের কাছে অতিপ্রিয়। ভরা বর্ষায় সে রূপ উপচে পড়ে। হাওরের স্বচ্ছ জলে জলকেলি, রাতে জল-জোছনার মায়াবী খেলায় তনু–মন দুটোই জুড়িয়ে যায়। শেষ বিকেলে উত্তরের সবুজ মেঘালয় পাহাড়, আকাশে থাকা মেঘের ছায়া অন্য রকম এক মায়ায় বিলিয়ে দেয়, মুগ্ধতা ছড়ায় চারপাশে।
হাওর, পাহাড়, নদী ও লেকের অপার সৌন্দর্য একসঙ্গে ধরা দেয় সুনামগঞ্জে। টাঙ্গুয়ার হাওর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে তাই মুগ্ধতা নিয়ে ফেরেন পর্যটকেরা। কিন্তু পর্যটকদের অসতর্কতার কারণে এ হাওরের সৌন্দর্য হুমকির মুখে, কারণ পর্যটনের নামে বাড়ছে শব্দ দূষণ। প্রকৃতির মাঝে ডিজে সাউন্ডের কর্কশতা। এক সময় যে হাওরে ভেসে বেড়াত পাখির কলরব আর বাতাসের মৃদু সুর, সেখানে এখন প্রতিদিনই শোনা যাচ্ছে ডিজে সাউন্ডের তীব্র কর্কশতা। উচ্চস্বরে বাজানো গান, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং নাচ-গানে মুখর থাকে পর্যটকবাহী নৌকাগুলো।
আর সে কারণে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকবাহী হাউসবোট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ-টাওয়ার ও আশপাশের এলাকায় পর্যটকবাহী হাউসবোট প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ নির্দেশনা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসন থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ-টাওয়ার ও আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের বহনকারী হাউসবোট চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হাওরের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর যে কোনো কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বর্ষাকালে জলজ জীব ও পাখিদের প্রজনন মৌসুমে অতিরিক্ত নৌযান চলাচল পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ পদক্ষেপকে তারা সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর একটি পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা। গত ২০ বছরে এখানকার ৭০ শতাংশ জীববৈচিত্র্য হ্রাস পেয়েছে। তিনি পর্যটন নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি পদক্ষেপ এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণার দাবি জানান।














