হামে চার শতাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। একই সঙ্গে সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ের সামনে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এই দাবি ও সমালোচনা করেন দলটির নেতারা। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আগামী ১৯ মের মধ্যে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঘেরাও, অবস্থান কর্মসূচিসহ আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
বক্তাদের ভাষ্য, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক পরিবার চিকিৎসা না পেয়ে সন্তান হারাচ্ছে। অনেক শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণও নির্ণয় করা যাচ্ছে না। কিন্তু এত বড় মানবিক সংকটের মধ্যেও সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা, বিশেষ ব্রিফিং বা জাতীয় উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
দলটির নেতারা বলেছেন, দেশে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হলেও সরকারের মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্বেগ, তৎপরতা কিংবা কার্যকর উদ্যোগের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
শিশুমৃত্যুর ঘটনা বাড়লেও সরকার অনেকটা নির্বিকার আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, শত শত শিশুহত্যার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম দায়ী হলেও তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জনগণ অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা দেখতে চায়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে তৎপর থাকলেও এখন পর্যন্ত এই বিপুল-সংখ্যক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় কোনো হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বলে খবর পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও সংসদে অসংলগ্ন কথা বলছেন এবং তার দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতা দেখাচ্ছেন।
পার্লামেন্টে এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুটি নিয়ে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে না এবং সরকার এ বিষয়ে অনেকটা নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ বলেন, হামে শিশুমৃত্যুর জন্য প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং স্বাস্থ্যসচিব সরাসরি দায়ী। তারা দেশের স্বাস্থ্য খাতের ভয়াবহ সংকটকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নেই ব্যস্ত ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। ‘৭১ বনাম ৪৭’-এর মতো বিতর্ক তৈরি করে জাতীয় চেতনাকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংসের মাধ্যমে বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের ওপর আঘাত এনেছে।
সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাগীব আহসান মুন্না বলেন, শিশুদের এই মৃত্যু কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। এটি চরম অবহেলা, দুর্নীতি এবং চিকিৎসা খাতকে ব্যবসায় পরিণত করার ফল। গুটি কয়েক মানুষের মুনাফার স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে কোটি কোটি শিশুর জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ








