সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। তবে চীনের ওপর আরোপিত চড়া শুল্ক শিথিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘চীনের ওপর আমি আর শুল্ক বৃদ্ধি করতে চাই না। নইলে এক পর্যায়ে মানুষ আর কিছু কিনবে না।’
গত ২ এপ্রিল চীনসহ কয়েক ডজন দেশের ওপর দেদার শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যেও পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। কয়েক দফায় চীনের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত তা ২৪৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। ৯ এপ্রিল চীন বাদে অধিকাংশ দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ক্ষেত্রে সবার জন্য সাধারণ ১০ শতাংশ শুল্ক জারি থাকে। এ তিন মাসে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যনীতি নিয়ে আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
কয়েকদিনের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ নিয়ে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আপাতত শুল্ক নিয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি হয়তো শুল্ক আর বৃদ্ধি করব না, বরং সেটা হ্রাস করার চিন্তা করতে পারি। কারণ আমরা চাই, মানুষ কেনাকাটা জারি রাখুক। কিন্তু এমন একটা পর্যায় আসতে পারে, যখন মানুষ আর কিছু কিনতে চাইবে না।’ তবে বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে রয়টার্স দাবি করছে, দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা এখনো দেখা যায়নি। এমনকি সম্ভাব্য ওই বৈঠকে আলোচনার প্রকৃতি কী এবং তাতে শি জিনপিং অংশগ্রহণ করবেন কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা বর্তমানে অচল অবস্থায় থাকলেও তিনি বলেন, ‘বেইজিং থেকে অনেকবার তাদের প্রতিনিধিরা যোগাযোগ করেছেন।’ আলোচনার বিষয়েও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা আলোচনার কাঠামো উল্লেখ করেননি ট্রাম্প।
গত সপ্তাহে চীন ঘোষণা করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর সংখ্যার প্রতিযোগিতায় আগ্রহী নয় তারা। তবে ওয়াশিংটনের কোনো পদক্ষেপে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুমকি দেয় বেইজিং।








