মঙ্গলবার দুপুরে এক অবস্থান কর্মসূচিতে কথা বলেন বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক। ভারতের সঙ্গে সরকারের মধুর সম্পর্কের পরও কেন অভিন্ন নদীর পানি হিস্যার সমাধান হচ্ছে না; তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুরে এক অবস্থান কর্মসূচিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সরকার প্রধানসহ ব্যক্তিবর্গ এবং পশ্চিমবঙ্গ-ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী কাছে আম-লিচু-ইলিশ মাছ উপহার হিসেবে পাঠানো বিষয়টি তুলে ধরে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বলেন, ‘আপনি (শেখ হাসিনা) ভারত গেলেন এক সাপ্তাহে দুই বার। কী মধুর সম্পর্ক, কী প্রেমপ্রীতি-ভালোবাসা। আম পাঠান, লিচু পাঠান, ইলিশ পাঠান কিন্তু গিয়ে ফেরত আসেন খালি হাতে। আমার পানির ন্যায্য হিস্যাটা আনতে পারেন না। বরং নতুন চুক্তি করে আমার বুকের ওপর দিয়ে রেললাইন নির্মাণে সমঝোতার চুক্তি আপনি স্বাক্ষর করেন। আপনারা ব্যর্থ সরকার।
ফারুক বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব প্রতিদিন নতুন কথা আবিষ্কার করেন। আজকের পত্রিকায় দেখলাম তিনি বলেছেন, মমতার জন্য নাকি আমরা তিস্তার পানির শেয়ার পাচ্ছি না। হায়রে কপাল এতো মন্দ আমাদের। এই মন্দের পেছনে আওয়ামী লীগ। এই কথার অপরাধের পেছনে আওয়ামী লীগ। কারণ ২৫ বছর গোলামির চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি অসন্মান দেখিয়েছিল। আবার নতুন করে আবার সমঝোতা স্বাক্ষরের নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আজকে খর্ব করার পথে আপনারা।
তিনি বলেন, ‘আজকে বলতে চাই, অনুগ্রহ করে ওবায়দুল কাদের সাহেব আরেকজনের ওপরে দোষারোপ করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতি আপনাদের অবজ্ঞাসুলভ আচরণ তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। হিন্দুস্থান সরকার তার আঞ্চলিক সরকারকে কী করবে না করবে তা আমার বিষয় না। আমার বিষয় একটাই, আমার দাবি পূরণ করতে হবে আপনাদের। তাই আপনি ব্যর্থ সরকার। তাই আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছি আমরা দিল্লির দাসত্ব গ্রহণ করার জন্য নয়।’
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে সবাইকে আরও সক্রিয় হয়ে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানান জয়নুল আবদিন ফারুক।
গণতন্ত্র ফোরামের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভারতের সঙ্গে চুক্তি, অন্যদিকে দুর্নীতি, লুটপাট ও দেশকে ধবংস করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এ অবস্থান কর্মসূচি হয়।
ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, যুববিষয়ক সহ সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সহসম্পাদক অপর্ণা রায় দাসসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।








