কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় সাংবাদিক মিজানুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর (৫৫) ও তার ছোট ভাই মো. মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২১ এপ্রিল) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের নজর আলী মাতবরপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা একই এলাকার মৃত আবুল কাশেম মাতবরের ছেলে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবরসহ তার পরিবারের সদস্যরা কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর এলাকায় এক অসহায় পরিবারের জায়গা দখল করতে যান। এ সময় ওই অসহায় পরিবারের লোকজনকে বলেন, তোমাদের লাশের মাংসও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এভাবে হুমকি দেয়ার একটি ভিডিও সাংবাদিক মিজানুর রহমানের হাতে আসে।
এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেবসহ জড়িতদের বক্তব্য জানতে চাওয়ার পর সাংবাদিক মিজানুর রহমানের ওপর ক্ষিপ্ত হন তারা। গত শুক্রবার বিকেলে কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সেখানে তার ওপর হামলা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যরা। এ সময় তাকে পিটিয়ে আহত করে ক্যামেরা, মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন তারা।
এ ঘটনায় শনিবার সকালে সাংবাদিক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনকে এজাহারনামীয় ও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
আওরঙ্গজেব এক সময় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের হাতে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ফ্রিডম পার্টির কুতুবদিয়া উপজেলা সভাপতি ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে খোলস পাল্টে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ভাগিয়ে নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ। তার ভাই মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম চট্টগ্রামের আলোচিত ৮ মার্ডারের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে জমি দখল, টেন্ডারবাজি, মাদক কারবারসহ বহু অভিযোগ রয়েছে।
কুতুবদিয়া থানার ওসি মো. গোলাম কবির বলেন, সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় হওয়া মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তার ভাই সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।








