প্রথম ওয়ানডেতে হেরে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়েছে। সিরিজ হার এড়ানোর কঠিন সমীকরণে ১৯০ রানে আফগানদের অলআউট করে জয়ের স্বপ্ন দেখছে টাইগাররা। এই ম্যাচ জিতলেই ১-১ সমতায় ফিরবে বাংলাদেশ।
আজ শনিবার (১১ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও ওপেনার ইবরাহিম জাদরানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত ৪৪.৫ ওভারে ১৯০ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৫ রানের ইনিংস খেলেন ইবরাহিম।
আফগান শিবিরে প্রথম আঘাতটি হানেন তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব। রহমানউল্লাহ গুরবাজকে আউট করে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তিনি। সাকিবের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে জাকের আলীর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন গুরবাজ। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ৪.৫ ওভারে ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
ইনিংসের নবম ওভারে বোলিংয়ে এসে সফল হন তানভীর ইসলাম। তার বলে সাদিকউল্লাহ অটল লং অনে তানজিম হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ৮.৪ ওভারে ৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ১৩ বলে ৮ রান করেন অটল।
এরপর ১১ রান করে আফগান মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান রহমত শাহ ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন।
রহমত শাহ ফেরার পর ক্রিজে নামা আফগান অধিনায়ক হাশমাতুল্লাহ শহীদিকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। কভার অঞ্চল দিয়ে খেলার চেষ্টায় টাইমিং মিস করলে বল স্টাম্পে আঘাত হানে। মাত্র ৪ রান করে হাসতে হাসতেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন শহীদি।
দলীয় ৭৯ রানের মাথায় রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। স্লিপে থাকা তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩ বলে শূন্য রানে ফেরেন আজমত।
দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেও ইনিংসের শুরু থেকে একপ্রান্ত ধরে রেখেছিলেন ওপেনার ইবরাহিম জাদরান। ক্যারিয়ারের ৩৮তম ওয়ানডে ম্যাচে অষ্টম ফিফটি হাঁকিয়ে তিনি সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষদিকে দলের স্কোর বাড়ানোর তাগিদে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন ইবরাহিম। ১৪০ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে তিনি ৯৫ রান করেন।
নিয়মিত উইকেট হারানোর ফলে আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত ১৯০ রানে গুটিয়ে যায়। বাংলাদেশের পক্ষে তানজিম হাসান সাকিব সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন, এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন দুটি করে উইকেট পান।








