ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তত ১৫টি পশ্চিমা দেশ। ফ্রান্স ও সৌদি আরবের উদ্যোগে নিউইয়র্কে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়।
বুধবার ৩০ জুলাই তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই সম্মেলনে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের স্থায়ী সমাধানে ‘দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক’ পথরেখা পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলা হয়।
সম্মেলন শেষে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো এক্স (সাবেক টুইটার)–এ বলেন, “আমরা সম্মেলন থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি— ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে আমরা। যারা এখনো দেয়নি, তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত সপ্তাহে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দেন যে, তার দেশ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে। এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে ফ্রান্স। তবে প্যারিস জানায়, এই স্বীকৃতি বিশ্ব কূটনীতিকে এগিয়ে নেবে এবং ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে।
এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও জানিয়েছেন, যদি ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাজ্যও সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পারে। এভাবে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য হতে পারে জি-৭ জোটের প্রথম দুই সদস্য যারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, সৌদি আরব, স্পেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। তারা দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি নিজেদের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে স্বাক্ষরকারী ১৫ দেশের মধ্যে অন্তত ৯টি এখনো ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড। এসব দেশ জানিয়েছে, স্বীকৃতির বিষয়টি তাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার এ ধরনের সম্মিলিত পশ্চিমা উদ্যোগ ভবিষ্যতের শান্তি আলোচনায় নতুন গতি আনতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি








