রাতের শান্ত দীঘিতে শুয়ে আছে চাঁদ
কতো আর বয়স হবে
উপুড় হয়ে শুয়ে আছে যে চাঁদ!
জানো না মেয়েদের বয়স জানতে নেই
চাঁদ তো মেয়েই
আর কী অচেনা!
সুখের নিবিড় আবেশে দেখো কীভাবে কাঁপছে চাঁদ
স্পষ্ট দেখা যাছে ওর উঁচু পেট
হ্যাঁ
ও তো গর্ভবতী
প্রথম মা হবার তীব্র অনুভূতি
কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে সারা দীঘিতে
আমার চোখ নিয়া আমি কনফিউজড
এক ছুটির দিনে
আমার চোখগুলা নিয়া
আমি রোদে বসলাম
এগুলা কোন কাজেই আসতেছে না
সবচে আতঙ্কের ব্যাপার হইলো
এগুলার ভিত্রে
কোনটা
আমার চোখ
সেইটাই বুঝতেছি না
অথবা এমনও তো হইতে পারে
যে এগুলার ভিত্রে
আমার চোখ
নাই-ই
আমার ওপ্রে আর তোমার নিজের ওপ্রে বিশ্বাসটা রাইখো
এই বাগান আমাদের
তুমি-আমি বাগানের গাছ
বাগানের ফুল
বাগানের কুয়াশা।
দেইখো
একদিন
সত্যিকার বাগান আমরা হয়া উঠবো।
তালগাছ
সেকালের সরস্বতী কুন্ডী আর একালের পেঁচা, শূন্যে বায়ুভষ্ম মেলে দিচ্ছি
বাংলাভাষার রয়েছে নিজস্ব বর্ণমালা, তা সত্ত্বেও বাগানের গল্প আকাশ জানে না
এক বিষ্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আরেকটি বিষ্ফোরণ, সেখানে পাথর ও জোনাকি
আত্মহত্যাপ্রক্রিয়ায় হয়তোবা ডেকে আনে অপরাধবোধ,
পৃথিবীর রোমকুপগুলির আটালো পর্দা খুলে যাচ্ছে, বাদুড়েরা এখন নিশ্চিন্ত
আহা এই সোঁদা গন্ধে বমবম ঘুরছে মাথাটা
বাইসাইকেল পড়ে আছে নির্জনতা বহন করছে কয়েকটি স্পোক
কারখানা হবে তার জন্য ফুল ও কবিতা রপ্তানীর জলোশ্বাস
সমসাময়িক তালগাছ জড়িয়ে পড়েছে স্কুলব্যাগ ও এপ্রোনে
শোনা যায় কাশবনে ঘুমিয়ে পড়েছে নদী, তা-দেওয়া ডিম গহিন নির্জন
হিজড়েগুলোকে নিয়ে শুয়ে পড়ো সরে পড়ো না হয় পাছায় লাথি কষো
এদিকে দেখছি গাধার মা-বাবা আমাকে খুবই বিশ্বাস করেন
বাংলাদেশে হাজারখানেক নদী উনি বললেন তাদের কৌমার্য
আর্টিস্টরা যদি ভালোমতো আঁকতে পারতো
আমাদের ঘনঘন মনখারাপ হতোনা, টিস্যুপেপারকে দুর্মূল্যের
দ্রব্য বলে পিছিয়েছি, সন্ধ্যে সাতটার বাস ধরে
যতক্ষণ বাড়িতে পৌছবো, বৌ গেরস্থালির কাজ সেরে ভৌতিক আলোয়
দু-মিনিট জপতপ, সবুজ স্ফুলিঙ্গচিহ্ন ধরে সমস্ত কিছুই জাগতিক
নতুন ব্লাউজ খুলে স্তনে মুখ দিচ্ছি
কাপড়ের কড়কড়ে গন্ধ শিশুর দুধের গন্ধ
কয়েকটি অসমাপ্ত দিনের হরিণ
মারাত্মক, ঘুঘুপাখির বাসায় ঘুমিয়ে পড়ছি
ঘুমের ভিতর কুচি কুচি কাঁচ
বিষপিঁপড়ের ঝাঁক স্তন থেকে সমস্ত শরীর
ঢেকে ফেলে, খালের ওপারে ঘর-পোড়া
ছাইয়ের ভেতর আগুন, না-জন্মানো ভাষা
সে-আগুনে মিশে যৌনতাকে দেয় শিল্পরূপ
সমাজ-সভ্যতা-রাষ্ট্র হয়ে ওঠে শিল্প
আমরা স্বামী-স্ত্রী ভেষজ দুর্গন্ধে অতিক্রম করি ক্যান্টনমেন্টের রাস্তা
রক্তের ফোঁটা
রক্তের প্রতিটা ফোঁটাই গুরুত্বপূর্ণ
মানুষের রক্ত
শুয়োরের রক্ত
তেলাপোকার রক্ত
ভ্যানগঘের কাটা কানের রক্ত
চাঁদের রক্ত
অপ্রকাশিত বইয়ের রক্ত
রক্ত
রক্ত
ফ্যাকাশে মুখ কিশোরী বসে আছে
আয়নার সামনে
নতুন রক্তের আতঙ্কে
শিশির আজম
জন্ম : ২৭ অক্টোবর ১৯৭৮
জন্মস্থান, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা :
এলাংগী, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ-৭৩৩০, বাংলাদেশ।
কাব্যগ্রন্থসমূহ
ছাই (২০০৫)
দেয়ালে লেখা কবিতা (২০০৮)
রাস্তার জোনাকি (২০১৩)
ইবলিস (২০১৭)
চুপ (২০১৭)
মারাঠা মুনমুন আগরবাতি (২০১৮)
মাতাহারি (২০২০)
টি পোয়েট্রি (২০২০)
সরকারি কবিতা (২০২১)
হংকঙের মেয়েরা (২০২২)
আগুন (২০২৪)
বিষ (২০২৪)
সম্পাদিত ছোটকাগজ : শিকড় (৫ টি সংখ্যা প্রকাশিত)
সম্পাদিত কবিতার ভাঁজকাগজ : বাংলা (৩ টি সংখ্যা প্রকাশিত)
বাংলা কবিতায় Tea Poetry Movement এর উসকানিদাতা।








