মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ শতভাগ সফল হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে এটি একটি ‘ইস্পাত প্রাচীর’ হিসেবে কাজ করছে। তার ভাষায়, এই অবরোধের ফলে শত্রুপক্ষের নৌযান চলাচল কার্যত নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
তবে ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক এই জলপথকে যুক্তরাষ্ট্র উন্মুক্ত ও শুল্কমুক্ত রাখতে চায়, যাতে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ওয়াশিংটন কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
ট্রাম্পের দাবি, প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ভূগর্ভে লুকিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন নেই, তবে তা ইরানের হাতেও থাকতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধ্বংস করা হবে।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা আরও পরিশোধন করলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই জলপথে মার্কিন নৌবাহিনী কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন— দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো অংশ বিদেশে পাঠানো যাবে না।
চলমান সংকটের মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তেহরান সফর করেছেন। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এ সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।







