ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অনার্স ২য় বর্ষ ২০২৩ সালের পুনঃনিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফরম ফিলাপে বাধ্য করে ঠিক পরীক্ষার একদিন আগে ফলাফল প্রকাশ করা ঢাবির প্রহসন ও সিন্ডিকেট বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
ওয়েবসাইটে অনার্স ২য় বর্ষের হিসাববিজ্ঞান, মার্কেটিং, মনোবিজ্ঞান (মেজর), পদার্থবিজ্ঞান (নন- মেজর), ইংরেজি (আবশ্যিক), ইংরেজি, বাংলা, রসায়ন (নন- মেজর), গনিত (মেজর) ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং ৩য় বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পুনঃনিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ফেল করা শিক্ষার্থীদের পুনঃনিরীক্ষার ক্ষেত্রে সাত কলেজে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠছে। ফরম ফিলাপে বাধ্য করে ঠিক পরীক্ষার আগের দিন ফলাফল প্রকাশ করা প্রহসনের শামিল। প্রতি বিষয়ে ৮০০ টাকা করে মোটা অংকের ফি নিলেও উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হয় না। শুধুমাত্র নম্বর পুনরায় গণনা করে ফল প্রকাশ করা হয়। ফলে ফলাফল পরিবর্তনের ঘটনা খুবই কম, আর প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে হতাশ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উত্তরপত্র দুইজন পরীক্ষক মূল্যায়ন করেন, কিন্তু অধিভুক্ত সাত কলেজে শুরু থেকেই একজন পরীক্ষক সব খাতা মূল্যায়ন করে থাকেন। এই একক মূল্যায়ন পদ্ধতির ফলে বিভিন্ন কোর্সে গণহারে ফেল দেখা যায়। ফেল করার পরও শিক্ষার্থীরা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলেও সেখানে খাতা পুনর্মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই, শুধু নম্বর গোনা হয়। তবুও প্রতি বছর, প্রতিটি সেশনে হাজারো শিক্ষার্থী ভালো ফলের আশায়, বা অন্তত পাস করার প্রত্যাশায় পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করে। প্রতি কোর্সে ৮০০ টাকা ফি দিতে হয়, অথচ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন শুধু নম্বর গোনার জন্য এতো টাকা ফি কেন?
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
ভালো পরীক্ষা দিয়েও হঠাৎ ফেল আসায় অনেক শিক্ষার্থী তা মেনে নিতে পারেন না। আবার কেউ ভালো ফলের লক্ষ্যেও নিয়মিত আবেদন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটোছুটি করে আবেদন জমা দেওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, তাদের খাতা কখনোই পুনরায় মূল্যায়ন করা হয় না। বরং পুনঃনিরীক্ষণের নামে শুধু নম্বর গুণে লাখ লাখ টাকা লোপাট করছে কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগও রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী হাসিব হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, পরীক্ষার ঠিক আগের দিন ফল প্রকাশ করা সম্পূর্ণভাবে একটি সিন্ডিকেট ও প্রহসনমূলক আচরণ। তিন-চার মাস আগে দ্বিতীয় বর্ষের ফল প্রস্তুত থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে, যাতে ছাত্ররা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ না পায় এবং ইমপ্রুভমেন্টে বাধ্য হয়।
তিনি জানান, অনেক ছাত্র ৮০-৯০ নম্বরের মতো ভালো পরীক্ষা দিয়েও অপ্রত্যাশিতভাবে ফেল করেছে, যা অবিশ্বাস্য ও প্রশ্নবিদ্ধ।









