দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষণা হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল। শীর্ষ চারটি পদের মধ্যে তিনটিসহ মোট ২৫টি পদের ২১টিতেই বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা। তবে শিবিরের এমন উত্থানের ভিড়ে জাকসুর শীর্ষ পদ অর্থাৎ ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের আবদুর রশিদ জিতু।
১৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাকসুর ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান। নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে ২১টিতেই জয় পেয়েছে শিবির। বাকি চারটি পদের মধ্যে দুটি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস ও দুটি স্বতন্ত্র প্যানেলের দখলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবদুর রশিদ জিতু। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শরীয়তপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি। স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন অনুভূতির প্রতিষ্ঠাতা। কোদালপুর উচ্চ বিদ্যালয়, শরিয়তপুর গোসাইরহাট শামসুর রহমান ইউনিভার্সিটি কলেজ, ঢাকার তেজগাঁও কলেজে পড়াশোনা করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরের গোসাইরহাট এলাকায়।
জুলাই আন্দোলনের প্রথম থেকে সোচ্চার ছিলেন জিতু। এমনকি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যৌক্তিক সব আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন। মূলত, জুলাই আন্দোলন থেকে তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসজুড়ে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আগে জিতু ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও আন্দোলনের সময় সর্বপ্রথম ছাত্রলীগের হাতে মার খেয়ে আহত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে আরিফ সোহেল আটক হলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে ফার্স্ট ম্যান হিসেবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগরের আন্দোলন পরিচালনা করেন। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক পদ থেকে পদত্যাগ করে গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন নামে প্ল্যাটফর্মের সূচনা করেন। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন তিনি।









