শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৯ শাওয়াল ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

গাজা সিটিতে বহুতল ভবন ধ্বংস, একদিনে নিহত অন্তত ৬৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় নগরী গাজা সিটির ধ্বংসযজ্ঞ আরও তীব্র করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। সর্বশেষ তারা শহরের আরেকটি বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে। একই দিনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৫ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০টি ভবন ধ্বংস হয়েছে। এতে হাজারো পরিবার আশ্রয় হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা এই তথ্য জানায়।

আল-রুয়া টাওয়ারে হামলার পাশাপাশি রবিবার নিহতদের মধ্যে ৪৯ জনই ছিলেন গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা। ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, বাসিন্দাদের সরতে বলার পর ওই ভবনে হামলা চালানো হয়।

হামলার সময় ঘটনাস্থলের কাছে থাকা ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের প্রধান আমজাদ শাওয়া বলেন, “অবস্থা ভয়ঙ্কর। শত শত পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ইসরায়েল মানুষকে দক্ষিণে সরাতে চাইছে, অথচ দক্ষিণেও কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই।”

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তাদের সেনারা “সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সন্ত্রাসীদের ভবন” ধ্বংস করছে। তবে ধ্বংস হওয়া আল-রুয়া টাওয়ার ছিল মাত্র পাঁচতলা বিশিষ্ট, যেখানে ২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান, একটি ক্লিনিক ও জিম ছিল। এর আগেও আল জাজিরা ক্লাব এলাকায় তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর ওপর হামলা চালানো হয়।

গত শুক্রবার ও শনিবার গাজা সিটির মুশতাহা টাওয়ার (১২ তলা) ও সউসি টাওয়ারে (১৫ তলা) হামলার পর বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয় এবং অনেকে গুরুতর আহত হন। সউসি টাওয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবার জানায়, “আমাদের কিছুই অবশিষ্ট নেই। আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো ভবন ধ্বংস হয়ে যায়।”

গত আগস্টে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, ইসরায়েলের কথিত ‘মানবিক নিরাপদ অঞ্চল’-এর দাবিতে কেউ যেন বিশ্বাস না করে। কারণ দক্ষিণের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় ঘোষণা করা হলেও, সেখানেও একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, “প্রতি পাঁচ থেকে দশ মিনিট অন্তর গাজা সিটিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। সাবরা ও জেইতুনসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ চলছে।”

তার ভাষায়, ইসরায়েল দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক রোবট ব্যবহার করে আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করছে। শেখ রাদওয়ান এলাকায় ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ ও সরকারি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, গাজা সিটির পশ্চিমে আল-ফারাবি স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছিল। সেখানে এক হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

‘বিগত দুই সরকারের সময় ঠিকমতো হামের টিকা না দেওয়া ক্ষমাহীন অপরাধ’
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু
সৌদি আরব পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলন
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
‘শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে’
‘এই দেশ আমাদের, অন্যকেউ গড়ে দিয়ে যাবেনা’
আজ হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ইসরাইল-লেবাননের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব
১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার
বিদ্যুৎ উৎপাদনে কমিশনিং লাইসেন্স পেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
শীঘ্রই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়াচ্ছে
হামের চিকিৎসায় এবার ৮ সদস্যের মেডিকলে বোর্ড গঠন
হজ কাদের জন্য ফরজ?
এনটিআরসিএ’র শিক্ষক শূন্যপদ ৭৭ হাজার
নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের
শুক্রবার রাতে ঢাকা ছাড়বে প্রথম হজ ফ্লাইট
বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাসে আসছে পরিবর্তন
বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান পেলো স্বাধীনতা পুরস্কার

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.