জীবন সংক্ষিপ্ত কিন্তু এই জীবনে বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি, দুশ্চিন্তা কিংবা কোনোকিছু চেয়ে বরাবরই মুমিনরা সৃষ্টিকর্তার দরবারে মোনাজাত করেন। মহান আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। যখন কোনো বান্দা তাঁর নিকট দুই হাত তুলে মোনাজাত করে, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে শূন্যহাতে ফিরিয়ে দেন না।
পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় ও ঈমান আনয়ন করে। আশা করা যায়, তারা সফলকাম হবে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)।
অন্যএক আয়াতে এসেছে, ‘আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায় তাদের আমি অবশ্যই অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করবো। অবশ্যই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।’ ( সূরা আনকাবুত (২৯), আয়াত: ৬৩)
এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়ে দোয়া করতেন। উম্মতদেরও মহান রবের নিকট দোয়া করার পদ্ধতি জানিয়েছেন তিনি। যা বিভিন্ন সময়ে সাহাবায়ে-কেরামদের মাধ্যমে বর্ণিত নানা হাদিসের মাধ্যমে এসেছে। এরমধ্যে দোয়া কবুলের উত্তম সময় শেষরাত।
আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ তায়ালা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে (প্রথম আসমান) অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন- কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। কে আছ এমন যে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দেবো। কে আছ এমন আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করবো। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৭৯)
এ ক্ষেত্রে ইসমে আজম বা আল্লাহ’র গুণবাচক নাম ব্যবহার করে দোয়া করলে মহান রব তা কবুল করেন। একবার রাসুল (সা.) এক ব্যক্তিকে দোয়া করতে শুনলেন। ওই ব্যক্তি বলছিল-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্নি আসহাদুআন্নাকা আংতাল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লা অংতাল আহাদুস-সামাদ, আল্লাযি-লাম ইয়ালিদ, ওয়ালাম ইউলাদ, ওয়ালাম-ইয়াকুন লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং জানি যে, তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি এক ও অনন্য। তুমি অমুখাপেক্ষী ও স্বনির্ভর। যিনি কাউকে জন্মও দেননি। কারও থেকে জন্মও নেননি। যার কোনো সমকক্ষ নেই।’
লোকটিকে এমন দোয়া করতে শুনে রাসুল (সা.) তখন বললেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম! এই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে এমন ইসমে আজমের মাধ্যমে দোয়া করছে, যার উসিলায় দোয়া করা হলে আল্লাহ তা’য়ালা কবুল করেন এবং যার উসিলায় (প্রার্থনা) করা হলে তিনি তা দান করেন। (তিরমিজী, হাদিস: ৩৪৭৫)








