বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যাও বাড়তে থাকে। বিশেষ করে মানসিক সমস্যা। এ থেকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার।
আবার অনেক সময় বয়স অল্প থাকার পরও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে স্মৃতিশক্তি কমে যায়।
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া খুব সাধারণ বিষয় বলে প্রাথমিকভাবে তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু এই স্মৃতিশক্তির সমস্যাই একসময় আপনাকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করতে পারে।
ভুলে যাওয়া এই রোগকে ডিমেনশিয়া রোগ বলা হয়। কখনো কখনো কম বয়সেও ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। যেকোনো বয়সে স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখার উপায় জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। এবার তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।
জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য সবসময় মনকে সক্রিয় রাখতে হবে, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। চাপমুক্ত থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে।
নতুন কিছু শেখা : সবসময় নতুন কিছু শেখার আগ্রহ বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন কিছু শেখার জন্য কোর্স খুঁজতে পারেন বা অপরিচিত ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা যেতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুমানো : স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখার জন্য ঘুম অতন্ত্য প্রয়োজনীয় বিষয়। প্রাপ্তবয়স্কদের স্মৃতিশক্তির মান ভালো রাখার জন্য দৈনিক অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস : মস্তিষ্ক ভালো রাখার জন্য খাবার নির্ধারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কী খাচ্ছেন, তা কতটুকু স্বাস্থ্যকর, এসবে নজর রাখতে হবে। কারণ, খাদ্য আমাদের শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে থাকে। এ জন্য শরীরের সাথে মেধা বৃদ্ধিতে সতেজ ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বিদ্যমান খাবার খেতে হবে। এসব খারার মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।
নিয়মিত ব্যায়াম : শারীরিক ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ক্রিয়াকলাপ রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। এ জন্য দৈনিক ৩০ মিনিটের মতো ব্যায়াম করতে পারেন। এর মধ্যে হাঁটাহাঁটি, সাঁতার কাটা ইত্যাদি ব্যায়াম করা যেতে পারে।
মানসিকভাবে সক্রিয় থাকা : মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে বই পড়া, দাবা খেলা বা নতুন নতুন বিভিন্ন ধরনের খেলা খেলতে পারেন। এছাড়া স্মৃতির খেলাও খেলতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা : পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিন। সামাজিক কার্যকলাপগুলো মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করে। সেই সাথে একাকীত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।








