গুণী নাট্য নির্দেশক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ জামিল আহমেদকে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করার শর্তে যোগদানের দিন থেকে দুই বছরের জন্য তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হলো।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলের ফলে দীর্ঘ দিন থেকে শিল্পকলার একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা লিয়াকত আলী লাকীর পদত্যাগের পর এই পদটি শূন্য ছিল।
সৈয়দ জামিল আহমেদের মতো নাট্যব্যক্তিত্বকে শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষরা স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই সামাজিকমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ ১৯৫৫ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালে ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার স্নাতক প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন তিনি। একই বছর তিনি ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার টেলিভিশন প্রডিউসারস ট্রেইনিংয়েও প্রথম হন। ১৯৮৯ সালে তিনি ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইক থেকে থিয়েটার আর্টসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে অর্জন করেন পিএইচডি ডিগ্রি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এ বিভাগেই শিক্ষকতা করছেন।
সৈয়দ জামিল আহমেদের উল্লেখযোগ্য থিয়েটার প্রযোজনার মধ্যে রয়েছে- ‘বিষাদ সিন্ধু’, ‘কমলা রানীর সাগর দীঘি’, ‘এক হাজার আর এক থি রাত’, ‘বেহুলার ভাসান’, ‘পাহিয়ে’, ‘সং ভং চং’, ‘৪.৪৮ মন্ত্রাস’, ‘বিস্ময়কর সবকিছু’, ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ প্রভৃতি।
তার আলোচিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘অচিনপাখি ইনফিনিটি’, ‘ইনডিজেনাস থিয়েটার ইন বাংলাদেশ’, ‘ইন প্রেইজ অব নিরঞ্জন’, ‘ইসলাম থিয়েটার’, ‘এন্ড বাংলাদেশ’, ‘রিডিং এগেইন্সট দ্য ওরিয়েন্টালিস্ট গ্রেইন’,‘পারফরম্যারন্স অ্যান্ড পলিটিকস এন্টুইনড উইথ আ বুদ্ধিস্ট স্ট্রেইন’, ‘অ্যাপ্লাইড থিয়েট্রিক্স’, ‘এসেস ইন রিফিউসাল’।
তিনি বাংলাদেশে শিল্পকলা পদকে ভূষিত হয়েছেন।








