এত এত বিতর্কের মধ্যেও মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ভাষণ ছিল বেশ আক্রমণাত্মক। এছাড়া গাজায় চলমান ইসরাইলি গণহত্যা নিয়েও নানা মিথ্যা দাবি করেছেন তিনি। ভাষণে গাজায় ইসরাইলের অভিযানে সর্বাত্মক সহায়তা করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করেছেন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রায় সব কংগ্রেস সদস্যই। তবে দু-একজন যদিও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া মার্কিন ক্যাপিটলের সামনে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে জানানো হয়, ভাষণে নেতানিয়াহু গত ৯ মাস ধরে গাজায় চলমান গণহত্যাকে ‘বিজয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। মার্কিন কংগ্রেসের ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা শুধু নিজেদের রক্ষা করছি না। আমরা আপনাদেরও রক্ষা করছি, আমাদের শত্রু আপনাদেরও শত্রু, আমাদের লড়াই আপনাদের লড়াই এবং আমাদের বিজয় আপনাদের বিজয়। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ বারবারই টেনেছেন।
নেতানিয়াহুর এ ভাষণকে সাধুবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলই। তবে কংগ্রেসের বাইরেও জড়ো হওয়া জনতা নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দমনে মার্কিন পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। বিক্ষোভকারীদের ওপর মরিচের স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘নেতানিয়াহু আপনি পালাতে পারবেন না’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়। ওয়াশিংটনের ডাউনটাউন এলাকার সড়কগুলোতে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতিতে জটলার সৃষ্টি হয়। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তাদের ওপর চড়াও হয়েছিল বলে গার্ডিয়ান তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
এদিকে নেতানিয়াহুর ভাষণকে মিথ্যায় ভরা বলেছে হামাস। হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা সামি আবু জুহরি বলেছেন, নেতানিয়াহু মার্কিন কংগ্রেসে যে ভাষণ দিয়েছেন, তাতে তিনি একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হতে চান না বলে মনে হয়েছে। হামাসের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা আহমাদ আব্দেল হাদি বলেছেন, অবরুদ্ধ গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়ে ফিলিস্তিনি জাতি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে এই ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানও। ঐতিহাসিকভাবে ইরান ফিলিস্তিনিদের মুক্তির সংগ্রামের সবথেকে বড় অংশীদারদের একজন। চলমান সংঘাতের প্রথম থেকেও ইরান একটানা ফিলিস্তিনের পক্ষে ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবার যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নাসের কানয়ানি চাফি বলেছেন, অবৈধ ইসরাইলের শীর্ষ অপরাধী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় ৯ মাস ধরে গণহত্যা এবং শিশুহত্যার পর তাদের প্রধান মদদদাতা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা সভ্যতার প্রতারকরা বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদেরকে নির্দোষ এবং মানব-হিতৈষী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে এসেছে।
কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা পানিতে নকশা করার মতোই ব্যর্থ হয়ে গেছে। কেননা ইসরাইলের পৃষ্ঠপোষকতা করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির বীভৎস এবং হিংস্র চেহারা সারা বিশ্বের কাছে প্রকাশ হয়ে গেছে।






