মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২, ২১ শাবান ১৪৪৭, শীতকাল

টমেটোর দাম নেই, মাথায় হাত কৃষকের

গাছে গাছে ঝুলছে পাকা টমেটো। টমেটোর ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। কিন্তু সেই টমেটো তুলতে আগ্রহ করছেন না কৃষক। যার কারণে ক্ষেতে নষ্ট হচ্ছে টমেটো। শুধু টমেটো নয়, অন্যান্য সবজিও চাহিদানুপাতিক দাম না পাওয়াতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেতের মধ্যে পচন ধরেছে।

এমনই চিত্রের দেখা মিলল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। যার কারণে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন অজস্র কৃষক।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, দরপতনের কারণে তারা টমেটো তুলতে আগ্রহ হারিয়েছেন। এক মণ টমেটো বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে বাজারজাতকরণে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

কৃষকদের দাবি, সীতাকুণ্ড উপজেলায় ১২ মাস বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। আর এই উৎপাদিত সবজি সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। দেশের সবজি চাহিদা মেটাতে অবদান রাখছেন সীতাকুণ্ডের কৃষকরা।

বৃষ্টি চান না কুমিল্লার চাষিরা
কৃষি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা বা সংরক্ষণাগার থাকলে এই ক্ষতি এড়ানো যেত।

সরেজমিনে সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ শুধু সবজি ক্ষেত। যেখানে রয়েছে, টমেটো, বরবটি, করলা, লাউ, ঢেঁড়স ইত্যাদি। জমিতে ফলন ভালো হলেও দাম না পেয়ে হতাশায় কৃষকরা।

প্রতি বছর সীতাকুণ্ড উপজেলার মধ্যে, বারৈয়ারঢালা, সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ হয়ে থাকে। উপজেলা কৃষি দপ্তরের তদারকি, রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারও হয়েছে বাম্পার ফলন হয়েছে বিভিন্ন সবজির। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে টমেটো।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের কৃষক নুরুল আবছার বলেন, আমি প্রায় একশত পঞ্চাশ শতক জমিতে টমেটো চাষ করেছি। ধার করে এই চাষ করতে প্রায় আড়াই থেতে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ক্ষেতের মধ্যে ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু টমেটো বিক্রি করে যে টাকা পাচ্ছি তার চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে বাজারজাতকরণে। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮-১০ টাকা করে।

শহিদুল ইসলাম নামের আরেক কৃষক বলেন, একশ শতকের মতো জমিতে টমেটোর চাষ করেছি। তাতে প্রায় খরচ হয়েছে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। তিন মণ টমেটো বাজারে নিয়ে গেলে বিক্রি হয় বার থেকে তেরশ টাকা। আর বাজারজাতকরণে খরচ হয় আরও বেশি। এছাড়াও অন্যান্য সবজির দামও অনেক কম।

সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিব উল্ল্যাহ বলেন, তীব্র গরমের কারণে টমেটো দ্রুত পেকে যায়। এ অঞ্চলে যদি টমেটো প্রক্রিয়াকরণের কোনো ব্যবস্থা থাকত বা সংরক্ষণের জন্য হিমাগার থাকত, তাহলে এসব টমেটো নষ্ট হতো না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ফসল চাষে আরও আগ্রহী হতেন চাষিরা। টমেটোর পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দাম চাহিদানুযায়ী না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন।

তিনি আরও বলেন, লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক সবজি চাষে ঝুঁকেছেন। কিন্তু এবার ভালো দাম না পাওয়া ও উৎপাদন খরচ না ওঠায় বিপাকে পড়েছেন তারা। দাম খুব কম হওয়ায় ক্ষেত থেকে সবজি তুলছেন না কৃষকরা। এ জন্য ক্ষেতেই পচে নষ্ট হচ্ছে বহু কষ্ট ও অর্থব্যয়ে আবাদ করা বিভিন্ন সবজি।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

ফটোগ্যালারী

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০ 
কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.