শেরপুরের নকলা উপজেলার বেনীরগোপ গ্রাম ভোগাই নদীর তীব্র ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পাহাড়ি ঢল ও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রভাবে প্রতিবছরই নদীর তীর ভেঙে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছরে গ্রামের পূর্ব তীরের অন্তত ৫০০ মিটার এলাকা নদীতে হারিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে পারিবারিক কবরস্থান, মসজিদ, দোকানপাটসহ বহু বসতভিটা বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল ওয়াদুদ ও হাবিবুর রহমান বলেন, তাঁদের বাপ-দাদার গড়া সম্পত্তি একে একে নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে পুরো গ্রাম বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও নদীর তীর রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কিছু অংশে জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলা ও প্যালাসাইডিং করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, তাঁদের দপ্তরের সীমিত বরাদ্দের মধ্যে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বড় প্রকল্প প্রয়োজন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম তালুকদার বলেন, ভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায়ও উপস্থাপন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই প্রকল্প গ্রহণ জরুরি।
এদিকে, ভোগাই নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আসন্ন বর্ষায় আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।








