ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে কেবল একটি ‘সাময়িক বিরতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যেকোনো সময় আবারও সরাসরি সংঘাতে গড়াতে পারে এবং সে জন্য মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কেইন দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলাগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে দুর্বল করেছে।
মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির নৌবহর এবং অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামোর ৯০ শতাংশেরও বেশি এখন অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেনারেল কেইনের মতে, ইরানের প্রধান নৌ-যুদ্ধজাহাজগুলো আবার সচল বা পুনর্গঠন করতে এখন কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ওয়াশিংটন এখনো ইরানকে সামরিকভাবে চাপে রাখার অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি চললেও মার্কিন সামরিক কৌশলে কোনো ধরনের শিথিলতা আনা হয়নি। সেনারা আগের মতোই প্রস্তুত রয়েছে এবং আদেশ এলেই যেকোনো সময় পুনরায় সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করতে পারবে।
সব মিলিয়ে, এই বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে যে, যুদ্ধবিরতি আপাতত সংঘাত থামালেও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে স্থায়ী শান্তি হিসেবে দেখছে না। বরং পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও সমানভাবে বজায় রাখা হচ্ছে।








