শেরপুরের নকলায় শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি সরকার দলীয় তৎকালীন হুইপ মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরী-এঁর ১৪ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে শনিবার (৪ জানুয়ারি) রাত দশটার দিকে কলাপাড়া নতুন বাজারে (চেরুর বাজার) আলহাজ্ব জাহেদ আলী স্মৃতি সংসদ এর আয়োজনে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠন যৌথভাবে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এই আয়োজনের সার্বিক যোগানদাতা ছিলেন আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. সাদ্দাম সরকার।
তিনি ৪নং কু্র্শা বাদাগৈড় ইউনিয়ন এর সাবেক সফল চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাষ্টার এর নাতি এবং সাবেক মেম্বার মাহবুব আলী শাজাহান এর দ্বিতীয় সন্তান।
তিনি জানান– ‘আমার দাদা আব্দুল জলিল চেয়ারম্যান তৎকালীন সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক দলের সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমার বাবা মেম্বার হিসেবে জনগণের খেদমতে সময় দিয়েছেন। আমি এবং আমার বড় ভাই রাজা সরকার এলাকার যে কোন মানুষের বিপদে বা আমাদের স্বরণ করলে পাশে থেকেছি, প্রতি ঈদে এলাকায় মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় যোগাযোগ করে যাচ্ছি। যেহেতু আমাদের পরিবার বিএনপির রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত, তাই বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে আগামী পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার ইচ্ছা পোষণ করেছি, আশা করি আপনাদের খেদমত করার সেই সুযোগটা পাবো ইনশাআল্লাহ।’
এ-সময় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রহমত আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরী স্মৃতি সংসদ এর সাবেক সভাপতি ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, আব্দুল আওয়াল বাক্কি সরকার।
আরও উপস্থিত ছিলেন, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মিন্টু, ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জিয়ারুল ইসলাম, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য রুকুনুজ্জামান রনি, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক বেনজির আহমেদ, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোসলেম উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, জাহেদ আলী চৌধুরী ১৯৪৭ সালে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। ঐ জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেইসাথে শেরপুর জেলার দায়িতপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এরপরই যোগ্য নেতা হিসেবে কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে চলে আসেন। সেখানে তিনি প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও দেশের অন্যতম একজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন নকলার কৃতি সন্তান জাহেদ আলী চৌধুরী। ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।








