দেশের মুসলমানদের ‘শান্তিপ্রিয়’ উল্লেখ করে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, মুসলমানদের নিজেদের প্রতি যেমন সহানুভূতি রয়েছে তেমনি অন্যান্য ধর্মের প্রতিও সহানুভূতি রয়েছে। কিন্তু এই সহানুভূতিকে ব্যবহার করে কেউ যদি তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করে তাহলে সেইসব উগ্রবাদী হিন্দুদের প্রতিহত করতে আমাদের মনে বিন্দুমাত্র সহানুভূতি থাকবে না।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। পাশাপাশি, ইসকনকে অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবিও জানান তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ তার পাশে ছিলেন।
সারজিস আলম বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ উদারতা দেখিয়েছি। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যখন দেশ অস্থিতিশীল অবস্থায় পড়েছিলো তখন আমরা দেখেছি আমাদের মাদ্রাসার ভাইয়েরা কিভাবে রাত জেগে মন্দির পাহারা দিয়েছে। কিন্তু এই সহানুভূতিকে কেউ যদি প্রশ্রয় হিসেবে দেখে তাহলে পুরো বাংলাদেশ একসাথে এই সকল উগ্রপন্থীদেরকে প্রতিহত করবে।
তিনি আরও বলেন, যদি এই বিষয়ে সরকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করে তাহলে তা হবে এই সরকারের বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে অন্যতম একটি ব্যর্থতা। এ সময় দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ- ইসকনকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানান তিনি।
সারজিস বলেন, স্পষ্ট করে বলতে চাই, ইসকনের নামে যেসব উগ্রপন্থিরা বিগত ১৬ বছরে অসংখ্য অপকর্ম ঘটিয়েছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এসকল অপকর্মকে মানুষের সামনে আসতে দেয়নি। তারা ইসকনের এসকল অপকর্মকে মদদ দিয়েছে, প্রশ্রয় দিয়েছে, আশ্রয় দিয়েছে, লুকিয়ে রেখেছে। কিন্তু তাদের চরিত্র কী, তারা কীভাবে মানুষকে জবাই করে এই দৃশ্য আমরা গতকালকে দেখেছি।
ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যেমন সকল ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল, একইভাবে সকল উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে তাদের রক্ত গরম হয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে যেতে, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, তাদের প্রতিহত করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে, তাদেরকে যদি গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হয়, তাহলে পুরো বাংলাদেশে একসাথে ছাত্র-জনতা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে।
তিনি বলেন, যদি এই ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তাহলে এটি হবে সরকারের বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অন্যতম একটি ব্যর্থতা। যারা ইসকন নামে উগ্রপন্থি হিন্দুত্ববাদী মনোভাব বাংলাদেশে ছড়াচ্ছে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য তাদেরকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে।
জমিয়তুল ফালাহ মাঠের ওই জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম আদালত ভবন প্রাঙ্গণে সাইফুল ইসলাম আলিফের আরেক দফা জানাজা হয়।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে বেলা ১২টার দিকে নগরীর টাইগারপাস মোড়ে ‘উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের হাতে শহীদ অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের জন্য শোক ও সম্প্রীতি সমাবেশ’ শুরু হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ওই সমাবেশে অংশ নেন।








