শনিবার, ৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩, ২১ জিলকদ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

রহমান হেনরী’র পঞ্চকাব্য

১.

ছায়া নাই। ছবি নাই। ছায়াছবি— ছিলো না কখনও;
চিত্র-চলচ্চিত্র সব অস্ত গেছে, উদয়েরও আগে—
আমার হৃৎপিণ্ড এক বিষকাঁটালির মোথা, শোনো,
উন্মুল করেছি কারও অত্যাচারে— অন্যায্য সোহাগে।

অনাদি ও অন্ত নই; মৃন্ময়। আমার শরীর আছে—
যার নাই— সিজদায় পড়ে আছি আমি তাঁর কাছে।

কেবলই শরীর নই, বস্তু নই শুধু; অবস্তুর গুণাগুণ
ভিতরে বহন করি। আমিও দহন করি প্রতি দাহ্যকে।

কেবল পৃথিবী নয়— হয়তো-বা জগতের মহারাজ্যকে
চষে ফিরি। ভেতরে যে ফকিরি তা দ্বিগুন-ত্রিগুন…
ভিজানো যাবে না জলে; আগুনেও যাবে না পোড়ানো।
সন্দেহ করেছি বহু পরীক্ষিত পার্থিব লোকজবিশ্বাসে…

অবিশ্বাসই এ-অন্তরে ঈমান ও জ্যোতি হয়ে হাসে—
আপনা হৃদয়হ্রদে ডুব মরো; অতঃপর, বিশ্বকে জানো…

২.

ঢেউয়ের তলায়, তলিয়ে যেতে যেতেও
তোমার ধ্যানে বাঁচি—

তুমি নিদান, অপার জলের একমাত্র তরী,
সপ্তবর্ণা, তুমি, আমার একেলা ঈশ্বরী;

মরুর বুকে, নিরস পাথরক্ষেতেও,
মধুই যাঁচি; আসন্ন মৌমাছি

তোমার সুরেই জ্বললো প্রদীপ, বাজলো বিভাবরী

৩.

তরলে প্লাবিত দেহ। মস্তিষ্ক সাঁতারে
তোমার কূলের দিকে পৌঁছাতে যে পারে,
সে-ই জয়ী; যুগে যুগে, সে-ই বীর্যবান—

দিগন্তে গুঞ্জন আছে। যদিও আসমান
শূন্যতার ব্যাপ্তিতেই সুনীলের গান
হতে পারে। এই প্রামাণ্যের সঠিকতা

অন্তরে বহিছে বলে বৃক্ষতরুলতা
সর্বদাই, সপ্রাণ— সবুজ হয়ে ওঠে;
আমারও শরীরে গান সুর হয়ে ফোটে—

গরলে প্লাবিত দেহ। বিকল্প সাঁতারে
জগতগহনে যারা ঢুকে যেতে পারে
তারাও তো দিগ্বিজয়ী! অন্ধসংসারে

একদিন, আমি তারই ফোটাবো প্রমাণ,
জনে জনে, পৌঁছে দেবো— বিকল্প বারতা

৪.

একটা আঁতুড়ঘরের স্মৃতিকেই আমরা
আকাশ বলে সম্বোধন করছি। নৈঃসঙ্গ্যের মতো
আত্মীয় হয়ে ওঠা সেই সম্বোধন, এমন একটা
জীবন সমগ্রতার মধ্যে মিশে থাকে যে— এমনকি
আঁতুড়জীবনকেই মনে হয়: বেড়ে ওঠা

তবু, জন্মমুহূর্তের ভিন্নতাই, সেই গুপ্ত চিত্রকর
যে কিনা এঁকে দিচ্ছে— নদীময় বর্ণিল রেখা
প্রশান্ত আকাশি রঙের জল, একদিন ভিজিয়ে দেবে
তোমাকেও; এবং অন্তিমের অরণ্যছায়ার দিকে
হেঁটে যেতে যেতে, মনে হবে: আঁতুড়ঘরের
প্রান্তরেখার নামই— বিদায়

উপলব্ধির সেই বর্ণবিনিময়ের জন্য কোনই বনপাল নেই
শুধু মচমচ করে শুকনো পাতা; আর আছে— লাল
শিশিরবিন্দুর মতো রক্তফুল

৫.

তোমার ভিটে এখনও উদ্ভাসিত,
মনের আলো হৃদয় থেকে জ্বলে—
বোকার মতো উঠবে কি ও চাঁদ?
সমগ্রদেশ অন্ধকার না হলে!

তোমার দেশে এখনও বিবর্ণতা
আসতে কিছু বাকি রয়েছে কি-না
বলো? দগ্ধিতা, সেসব গুপ্তকথা—
অন্ধকারেই শুনবো জ্যোৎস্না বিনা;

আমার ভিটা কালোর ফিসফাসে
ডুবে যাচ্ছে তো এই গহনদিনে!
তাহলে আজ তোমার প্রশ্ন আসে,
নেবো না সেই ভার তোমাকে বিনে;

ফোটেনি চাঁদ রাত্রির আসমানে
তোমার আমার হৃদয়ই তা জানে

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

‘দেশের রাজনীতিতে এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি’
আইন প্রণয়ন, বদলি বা পদায়নে সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই
শুভেন্দু অধিকারী হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
‘আপোষহীন দেশনেত্রী’ বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক পুরস্কারে ভূষিত
হাসনাত-সারজিসকে নিয়ে রাশেদ খান’র বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
আমি সবসময় কাজের মাধ্যমে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করি: ভাবনা
কুরবানি ওয়াজিব হয় কখন!
২৩ দিন পর ইস্টার্ন রিফাইনারীতে আবারও উৎপাদন শুরু
ঈদুল আজহার ছুটি সাত দিন
নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন
মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনা করে নাসীরুদ্দীনের বার্তা
জিয়াউর রহমানের জীবনী নিয়ে নাটক ‘জেড’ আসছে
‘থ্রি ইডিয়টস ২’-এ যুক্ত হচ্ছে আরও এক ‘ইডিয়ট’
কোস্টগার্ডের বহরে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াকফ প্রশাসকের সাক্ষাৎ
সহকারী হত্যাকাণ্ডে শুভেন্দুর নিশানায় তৃণমূল
সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রভার সমালোচনা!
পশ্চিমবঙ্গে কি রাষ্ট্রপতির শাসন হতে যাচ্ছে?
‘কামব্যাক কমরেড’: মির্জা আব্বাসের উদ্দেশে পাটওয়ারী

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.