পবিত্র ঈদের দিনটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের আটটি জেলায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জে, যেখানে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া নাটোর, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, চাঁদপুর ও ময়মনসিংহে বাকি প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটে।
ঈদের দিন ঢাকা থেকে পিরোজপুরগামী ‘দোলা পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস গোপালগঞ্জের বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলে থাকা দুই বন্ধু এবং বাসের যাত্রী একই পরিবারের দুজন নিহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুরের গোবিন্দগঞ্জ থেকে ভাদুড়িয়াগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে বিপরীতমুখী একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। বৃষ্টির মধ্যে চলাচলের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিকশায় থাকা নারী ও শিশুসহ চারজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোপালগঞ্জ ও দিনাজপুর ছাড়াও দেশের আরও ছয়টি জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নাটোরে চারজন ও চট্টগ্রামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালীতে দুজন এবং টাঙ্গাইল, চাঁদপুর ও ময়মনসিংহে একজন করে মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
ঈদের দিনে এমন আকস্মিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানিতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোতে আনন্দের বদলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহনগুলো জব্দ করেছে এবং ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।








