শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১১ জিলহজ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

সেনানিবাসে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী

কলিকাল প্রতিনিধি

ছবি : সংগৃহীত

সকলের সহযোগিতা পেলে সরকার ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘সৈনিকসহ দেশের সাধারণ মানুষ দেশকে যেভাবে কল্পনা করে, সরকার চেষ্টা করছে পর্যায়ক্রমে দেশটাকে সেভাবেই গড়ে তুলতে। আমি বহু বছর দেশে থাকতে পারিনি। কেন পারিনি সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না।

কারণ সেসময় দেশে ভালো-মন্দ কী হয়েছে, তা নিয়ে সবারই কমবেশি ধারণা আছে। কিন্তু এখন আমরা দেশকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। ’

দেশ গঠনে সবার দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবারই নির্দিষ্ট কর্তব্য আছে। আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে সেগুলো পালন করি, তবে অবশ্যই আমাদের কাঙ্খিত দেশটি গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার ও সৈনিকদের এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ ঈদের দিনে আসুন, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি এবং তাঁর রহমত কামনা করি। তিনি যাতে আমাদের সকলকে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের তৌফিক দান করেন।’

তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে আমরা যাতে সারাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে পারি এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি-আল্লাহর কাছে এটাই চাওয়া।’

ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এই প্রীতিভোজের আয়োজন করে। এতে অফিসার ও সৈনিকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর অফিসার, সৈনিক এবং তাদের সন্তানদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করে। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা সেনানিবাসে তাঁর শৈশবকালের স্মৃতি রোমন্থন করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন আসছিলাম, সেসময় হঠাৎ মনে হল আমি প্রায় ৪৫/৪৬ বছর পেছনে চলে গেছি।

আমার সঙ্গে যারা গাড়িতে ছিলেন, তাদেরকেও এই গল্পটা বলছি। ১৯৭৫/৭৬ বা ৭৭ সালের কথা হবে। সিএমএইচের গেটটা তখন এত বড় ছিল না।

গাড়িতে সঙ্গে থাকা এডিসিকে জিজ্ঞেস করলাম, সিএমএইচে ঢোকার পরে ছোট একটা প্যাথোলজি ছিল; ওটার সামনে বাগানের মত একটা জায়গা ছিল; সেখানে দু’তিনটা সিমেন্টের বেঞ্চ ছিল; সেগুলো এখনও আছে?

তারপর আবার বললাম, একদম সোজা গেলে হাতের বাঁ দিকে ছিল ফ্যামিলি ওয়ার্ড আর ডানদিকে তখন স্টাফ সার্জন বসতেন। আর টিনের ঘরে স্টাফ সার্জন বসতেন। আমার জ্বর হলে একা একাই চলে যেতাম। এখনও মনে আছে, ওই সময়ে স্টাফ সার্জন ছিলেন মেজর আনোয়ার।’

প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিচারণে আরও উঠে আসে প্রতিদিন বিকেলে শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে সাইকেল চালিয়ে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা।

তারেক রহমান বলেন, ‘ওই সময়ে প্রায় প্রতিদিন বিকেল বেলা বন্ধুদের সঙ্গে বের হতাম ৭/৮ টা সাইকেল নিয়ে। সাইকেল চালাতে চালাতে সিগনালের কাছে মসজিদটার ওখানে যেতাম। সেই মসজিদটা এখন আরও অনেক সুন্দর! তখন পুরোপুরি সাদা চুনের পেইন্ট করা ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূল বিষয়টা হচ্ছে যে এই এলাকাটা বহু পুরানো। আমরা যেখানে বসে আছি, একসময় এখানে জঙ্গলের মত ছিল। আপনারা এখন অনেক সুন্দর একটা জায়গা দেখছেন কিন্তু তখন রাস্তাটা সরু ছিল।

আমি আজ এমন একটা স্থানে এসেছি, যেখানে আমার জীবনের বিরাট একটা বড় অংশ জড়িয়ে আছে। আমার ভালো-মন্দ, কষ্ট-ব্যথা, সুখ-দুঃখের বিশাল স্মৃতি এই পুরো এলাকায় মিশে একাকার আছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ঈদ, আনন্দের দিন। আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম কারণ এই জায়গাটায় এলে একটা আলাদা অনুভূতি কাজ করে। কারণ ছোটবেলা থেকে এখানে বড় হয়েছি। সৈনিকদের ব্যারাকের ভেতরে ঘুরে বেড়াতাম, তাদের সঙ্গে কথা বলতাম।’

অফিসার ও সৈনিকদের দেশমাতৃকার প্রতি দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেশের প্রয়োজনে অনেকেই হয়ত আজ ছুটিতে যেতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবে ঈদের সময় মানুষ পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চায়। আপনাদের স্যাক্রিফাইসের জন্য আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ এবং জাতি আপনাদের এই আত্মত্যাগকে অবশ্যই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

ঈদের দিনে ঘরোয়া রূপে অপু বিশ্বাস
ঈদে নতুন গান নিয়ে হাজির নুসরাত ফারিয়া
হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
সেনানিবাসে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী
মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করলেন প্রধানমন্ত্রী
আজ পবিত্র ঈদুল আজহা
আদ-দ্বীনে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
রাজধানীর নর্দায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৪
কটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি: সড়কমন্ত্রী
দুপুরের মধ্যে দেশের ৭ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা
শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করছেন হাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্বের সব মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু
‘সরকারি দল ও বিরোধীদল মিলেই একটি বাজেট উপহার দেবে’
ভারত থেকে দেশে ফিরতে সীমান্তে মানুষের ভীড়

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১ 
কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.