জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা করায় বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রমনা থানা শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলামকে শোকজ করেছে দলটি।
রোববার (৮ মার্চ) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর সই করা চিঠিতে এই শোকজ করা হয়েছে বলে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আজ ৮ মার্চ ২০২৬, রোববার সকালে আপনি দলের অনুমতি ব্যতিরেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। সুতরাং, এ ধরনের দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য কেন আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার যথাযথ কারণ দর্শিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি লিখিত জবাব দলের নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।’
এর আগে রোববার সকালে বিএনপির রমনা থানার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শাপলা কলি নিয়ে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বিপুল ভোটে হেরে যান। নির্বাচনের সময় এই আসামি বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দেন। কেবল তা-ই নয়, নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে যাওয়ার পর আরও বেশি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে মিথ্যা এবং মানহানিকর বক্তব্য ও বিভিন্ন হুমকি দিয়েছেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মানহানি, ভয়ভীতি দেখানো ও অবমাননার মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আমিরুল ইসলাম (আমীর) জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আসামিকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন। সর্বশেষ ৫ মার্চ ফেসবুকে আশরাফুল ইসলাম দেখতে পান, পাটওয়ারী মির্জা আব্বাসকে নিয়ে বিভিন্ন মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল করে দিয়ে মির্জা আব্বাসের মানসম্মান ক্ষুণ্ন করেছেন। মির্জা আব্বাসের সুনাম ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে একের পর এক মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা সব প্রকার শিষ্টাচার, সভ্যতার রীতিনীতিবহির্ভূত এবং মানহানিকর।








