শেরপুর জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিকেল হতেই ভীড় জমে ইফতার পরিবেশে। তবে এখানে কোনো ব্যবসায়িক হিসাব–নিকাশ নেই , আছে শুধু সেবার মানসিকতায় ভাগাভাগি করে নেওয়া ইফতারের আনন্দ।
রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ছয়শত রোজাদার বিনা মূল্যে ইফতার করেন এই মসজিদে। মাগরিবের আজানের আগেই শেষ হয় বিশাল ইফতার আয়োজন। ৫ জন রাঁধুনি বড় বড় হাঁড়িতে প্রায় ৬০ কেজি চালের খিচুড়ি রান্না করেন। সঙ্গে থাকে পেঁয়াজু, ছোলাভুনা, খেজুর, মুড়ি ও অন্যান্য খাবার।
মসজিদে আগত মুসল্লি, অসহায় ও দরিদ্র মানুষ, পথচারী কিংবা আশপাশের কর্মজীবী মানুষ—যে কেউ চাইলে অংশ নিতে পারেন এই আয়োজনে। আয়োজকদের ভাষ্য, এখানে কারও পরিচয় জানা মুখ্য নয়, রোজাদার অথবা ক্ষুধার্ত হলেই তিনি অতিথি।
প্রায় এক যুগ আগে ২৫ থেকে ৩০ জন রোজাদারকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এ উদ্যোগ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে এখন প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করেন। মসজিদের মূল কমিটির অধীনে ৩১ সদস্যের ‘ইফতার আয়োজন উপকমিটি’ এ কর্মসূচি পরিচালনা করে। সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়ন ও সমাজের বিত্তশালীদের অনুদানে চলে মাসব্যাপী এই আয়োজন। কেউ দেন চাল, কেউ ছোলা, কেউ খেজুর বা নগদ অর্থ।
ইফতার করতে আসা রোজাদারগণ বলেন, এখানে বসে একসঙ্গে ইফতার করার মধ্যে অন্য রকম তৃপ্তি আছে। অনেকের পক্ষেই প্রতিদিন এত আয়োজন করা সম্ভব হয় না। এ উদ্যোগ তাঁদের জন্য বড় সহায়।
রান্নার কাজে যুক্ত রাঁধুনি কাবিল উদ্দিন বলেন, ‘সকাল থেকেই তরকারি কাটাকাটি শুরু হয়। দুপুরে রান্নার কাজ শুরু করি। দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছায় এই কাজ করছি। প্রতিদিন এত মানুষের জন্য রান্না করতে কষ্ট হয়, কিন্তু ইফতারের সময় রোজাদারদের হাসিমুখ দেখলে সব কষ্ট দূর হয়ে যায়।’
ইফতার আয়োজন উপকমিটির সাবেক আহ্বায়ক ইমাম হোসেন বলেন, এই উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
মসজিদ নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, রমজান মাস এলেই মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রতিদিন শত শত মুসল্লি ইফতার করেন। ইফতার শেষে অনেকে নিজ উদ্যোগে প্লেট পরিষ্কার করে রাখেন। দিন দিন রোজাদারের সংখ্যা বাড়ছে। এতে কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকেরা আনন্দ নিয়েই কাজ করেন।
মসজিদ কমিটির আহ্বায়ক ইমান আলী বলেন, কেউ যেন খাবারের অভাবে ফিরে না যান, সে দিকে তাঁরা সর্বোচ্চ নজর রাখেন।







