ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবন দুটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ‘বাড়তি সতর্কতার’ অংশ হিসেবে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পত্রিকা দুটির কার্যালয়ের সামনে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ডিএমপির তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আক্কাছ আলী বলেন, “শাহবাগ ও বাংলামোটর এলাকায় সংঘর্ষের জেরে সতর্কতার অংশ হিসেবে এখানে পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এখানে অবস্থান করছেন।”
পত্রিকা দুটিতে আবারও কোনও হামলার আশঙ্কা বা তথ্য রয়েছে কিনা জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “ঠিক এমনটি নয়। শাহবাগের দিকে ঝামেলা হচ্ছে, যদি আবার এদিকে আসে। সেজন্য আমরা অবস্থান নিয়েছি।”
ডেইলি স্টারের একজন সংবাদকর্মী জানান, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের কর্মীদের ‘হোম অফিস’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে নজিরবিহীন হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় করা মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকশ মানুষকে আসামি করা হয় এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিক অভিযানে ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার পুলিশ আগাম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল ইনকিলাব মঞ্চ।
আজ শুক্রবার বিকালে সেই অবস্থান থেকে নেতাকর্মীরা পদযাত্রা শুরু করলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শাহবাগ থেকে বাংলামোটর এলাকা। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।








