বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১০ জিলহজ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

কলিকাল ডেস্ক

আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫৫তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগারের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি রক্তস্নাত স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন।

স্বাধীনতার চূড়ান্ত বিজয়কে অর্থবহ ও পূর্ণতা দেয় বঙ্গবন্ধুর এই প্রত্যাবর্তন। বঙ্গবন্ধু নিজেই তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। তাকে গোপনে পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে কারাগারে বন্দি করা হয়। এ সময় বাঙালি জাতি যখন মুক্তির জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে লিপ্ত, তখন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে মৃত্যুদণ্ডের আসামি হিসেবে ফাঁসির প্রহর গুনছিলেন। দীর্ঘ নয় মাস তিনি প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিলেন।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পর বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২৯০ দিন বন্দিদশায় কাটিয়ে তিনি লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছান।

সেদিন স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পুরো দেশজুড়ে বিরাজ করছিল উৎসবের আমেজ। লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হয়ে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় ছিলেন। বিমানবন্দর থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান, বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত পুরো পথ ছিল জনসমুদ্রে ভরা।

স্বাধীন দেশের মাটিতে পা রেখেই বঙ্গবন্ধু আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ নয় মাসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের হাতে সংঘটিত গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষের দুর্ভোগের কথা শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রুতে ভিজে ওঠে। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে বাংলার আকাশ-বাতাস।

সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘যে মাটিকে আমি এত ভালোবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালোবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালোবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি আসতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি—বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি মহান মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিক ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক। ১৯৪৭ সালে ভ্রান্ত দ্বিজাতি তত্ত্বের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার মানুষকে নতুন করে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি সেই শাসনের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন বাঙালি জাতির হৃদয়ে নতুন অনুপ্রেরণার দীপশিখা প্রজ্বলিত করেছিল। সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মরণে প্রতিবছর গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

আদ-দ্বীনে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
রাজধানীর নর্দায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৪
কটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি: সড়কমন্ত্রী
দুপুরের মধ্যে দেশের ৭ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা
শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করছেন হাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্বের সব মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু
‘সরকারি দল ও বিরোধীদল মিলেই একটি বাজেট উপহার দেবে’
ভারত থেকে দেশে ফিরতে সীমান্তে মানুষের ভীড়
দেশের ছয় জেলায় ঝড়ের শঙ্কা
ঢাকায় মৃদু ভূমিকম্প
‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান
মৃত্যুর মিছিলে ম্লান ঈদ আনন্দ
যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা টোল আদায়
কালশী বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে
হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.